কিশোরগঞ্জ, ৫ মার্চ, ২০২৫ (বাসস): উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত যুবক মো. রেদুয়ান মোল্লা। মাদ্রাসা থেকে ফাজিল শেষ করার পর, যখন তার বন্ধুরা চাকরির খোঁজে ব্যস্ত, তখন তিনি কৃষিতে মনোনিবেশ করে সফলতার স্বাদ গ্রহণ করেছেন। বাড়ির পাশের পতিত জমিতে শসা চাষ করে তিনি এখন লাভবান হচ্ছেন। বাজারে শসার দাম ভালো থাকায় তার কৃষি কার্যক্রমে মুনাফা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি এলাকার যুবক মো. রেদুয়ান মোল্লা এবার ২৬ শতক জমিতে শসা চাষ করেছেন। এদিকে, তার সফল কৃষি কাজ দেখে এলাকার বেকার যুবকরা তাকে অনুসরণ করে আত্মনির্ভরশীল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
রেদুয়ান মোল্লা জানান, পড়াশোনার সময় তিনি তার পিতাকে কৃষিতে সহযোগিতা করতেন, এবং এ থেকেই তার কৃষি বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি এবার ২৬ শতক জমিতে এয়ার মালিক সিডের হাইব্রিড জাতের শসা চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারে শসা ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং পাইকারী দামে মণ প্রতি ১৬০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আশা করছেন, এ বছর দেড় থেকে দুই লক্ষাধিক টাকার শসা বিক্রি করতে পারবেন।
রেদুয়ান মোল্লা বলেন, “কিছু বছর আগে আমি কৃষি বিষয়ে দুটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। এরপর সিডলেস লেবু এবং বেগুন চাষ করেছি। এখন শসার প্রকল্পে কাজ করছি। দুই-তিন দিন পর পর ৭ থেকে ৮ মণ করে শসা সংগ্রহ করতে পারছি। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মণের শসা বিক্রি করেছি। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে কৃষি কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।”
রেদুয়ানের বাবা জালাল উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আমরা সবসময় চাইছিলাম ছেলে ভালো একটা চাকরি করবে, কিন্তু সে যখন চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষি কাজ শুরু করে, প্রথমে মন খারাপ হলেও এখন ভালো লাগে। আমার ছেলে একজন সফল উদ্যোক্তা। সে আমাদের ধারণা বদলে দিয়েছে যে শুধুমাত্র চাকরি করেই টাকা উপার্জন করা সম্ভব।”
স্থানীয় কৃষক মরজত আলী বলেন, “রেদুয়ান মোল্লা দুই বছর ধরে শসা চাষ করছেন। আমরা প্রায়ই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকি। তাকে দেখে আমরাও কৃষিতে মনোনিবেশ করেছি। তিনি উচ্চ শিক্ষিত যুবক, চাকরি না করে কৃষি কাজ করে আমাদের উৎসাহ দিচ্ছেন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম শাহজাহান কবির বলেন, “মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিস কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে। বর্তমানে সাধারণ কৃষকদের পাশাপাশি রেদুয়ান মোল্লাদের মতো উচ্চ শিক্ষিত যুবকরা কৃষিতে মনোনিবেশ করছেন, যা দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।”
