আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পশুপাখি-মাৎস্য-কৃষিবন আন্তঃক্রিয়া
Table of Contents
পশুপাখি-মাৎস্য-কৃষিবন আন্তঃক্রিয়া

আন্তঃক্রিয়ার প্রকার
পশুপাখি, মাৎস্য ও কৃষিবন এই তিনটি অঙ্গের আন্তঃক্রিয়া এগুলোর বিভিন্ন সংযোগের ফলে সংগঠিত হয়। এই আন্ত:ক্রিয়া প্রধানত সাত প্রকার। যথা- জৈব-পরিবেশগত, প্রতিযোগিতা, বিনিময়, খাদ্য, প্রাণী খাদ্য, জৈব সার ও বিনিয়োগ সংযোগ।
আন্তঃক্রিয়ার বিবরণ
জৈব-পরিবেশগত সংযোগ (Ecological linkage)
একই ভূমি সম্পদের উপর বিভিন্ন সময়ে পশুপাখি পালন করলে মাছের খাদ্য তৈরি হয়। পরে মাছ চাষ করলে খাদ্য কম লাগে। আবার এই পরিবেশে কিছু জলমগ্ন গাছপালাও ভাল জন্মে। এরূপ পর্যায়ক্রমিকভাবে পশুপাখি, মাছ ও কৃষিবনের উৎপাদন পদ্ধতি জৈব-পরিবেশগত সংযোগ রূপে দেখা যায়।
প্রতিযোগিতা সংযোগ (Competition linkage)
একই ভূমি গো-চারণ, মাছ চাষ ও গাছপালা লাগানোর উপযোগী হলে প্রতিযোগিতা সংযোগ হয়। গো- চারণ ভূমিতে একই সময়ে গাছপালা লাগানো গেলেও মাছ চাষ করা যাবে না। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উৎপাদন বেছে নিতে হবে।
বিনিময় সংযোগ (Exchance linkage )
দুটি কৃষক পরিবারের মধ্যে পশুপাখি, মাৎস্য ও কৃষিবন এই সম্পদগুলোর উৎপাদিত দ্রব্য, উপজাত বা যে কোন কিছুর বিনিময়ে এগুলোর যে কোনটি গ্রহণ প্রক্রিয়াই বিনিময় সংযোগ ।
খাদ্য সংযোগ (Food linkage )
শস্যজাত খাদ্যের পর কৃষক পরিবারে মাংস, ডিম, দুধ, মাছ, শুটকী ও বিভিন্ন ফল প্রতিটি খাদ্যের অবশ্য প্রয়োজনীয় অংশ। তাই এসব মনুষ্য খাদ্যে পরিপূরক ভূমিকা রাখছে। এটাই খাদ্য সংযোগ।

প্রাণী খাদ্য সংযোগ (Feed and Fodder linkage )
গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য, ফলের উচ্ছিষ্ট মাছের ও পশুপাখির খাদ্য, মাছের গুঁড়া পশুপাখির খাদ্য, গাছের পাতা পশু খাদ্য- এভাবে একটি অপরটির প্রাণী খাদ্যরূপে সংযোগ সৃষ্টি করে।
জৈব সার সংযোগ (Manure linkage )
পশু-পাখির মূল-মূত্র ও দেহাবশেষ এবং মাছের আঁশ ও উচ্ছিষ্ট এগুলোর সবই জৈব সার রূপে কৃষিবন অঙ্গে ব্যবহৃত হয়। আবার কৃষিবনের পাতা, কচি ডগা, শিকড়, লতানো গাছ ইত্যাদি পচে কম্পোস্ট হলে তা পুকুর বা ডোবার উর্বরতা বৃদ্ধি করে মাছ উৎপাদনে সহায়ক হয়। এভাবেই জৈব সার সংযোগ গড়ে উঠে।
বিনিয়োগ সংযোগ (Investment linkage )
পশুপাখি, মাৎস্য ও কৃষিবন অঙ্গের উৎপাদিত দ্রব্য, উপজাত, পণ্য ইত্যাদি বিক্রি করে এদের যে কোন অঙ্গে পুনঃবিনিয়োগ করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
এভাবে অঙ্গের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বিনিয়োগ সংযোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।
