আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-খাদ্য তৈরির নিয়মাবলি ও দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ
Table of Contents
খাদ্য তৈরির নিয়মাবলি ও দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ
বিভিন্ন বয়স এবং উদ্দেশ্যে খাদ্যের উপাদানের তারতম্য
মাংস উৎপাদন, ডিম উৎপাদন এবং বাচ্চার খাবারে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন খাদ্য উপাদান ও উপকরণের পরিমাণ কম-বেশি হয়ে থাকে। তাই হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরির সময় খাদ্য উপাদানের এবং কি উদ্দেশ্য খাদ্য ব্যবহার হবে তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়।
হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরির উপকরণসমূহ
আমাদের দেশে হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরিতে সাধারণত আমিষ, শর্করা এবং চর্বির উৎস হিসেবে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয় খাদ্যমানসহ তার একটি তালিকা নিম্নে দেয়া হলো।
খাদ্য উপাদান (শতকরা হার)

নিম্নে বিভিন্ন হাঁস-মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় আমিষ এবং শক্তির পরিমাণ দেওয়া হলো :
বিভিন্ন বয়সের প্রয়োজনীয় উপাদানের পরিমাণ

হাঁস-মুরগির খাদ্যে আঁশের পরিমাণ শতকরা ৩-৫ ভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। অধিক আঁশযুক্ত খাবার হাঁস-মুরগি হজম করতে পারে না। হাঁস-মুরগির সুষম খাদ্য তৈরিতে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের পরিমাণ সাধারণত হাঁস-মুরগির ব্যাসের ভিত্তিতে হয় থাকে। নিম্নেবর্ণিত খাদ্য উপকরণসমূহ বিভিন্ন হারে মিশিয়ে সুষম খাদ্য তৈরি করা হয়। তবে ব্রয়লারের খাদ্যের জন্য এই পরিমাণের কম-বেশি হতে পারে।

খাদ্য তৈরির পূর্বে প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে একটি তালিকা তৈরি করে নিতে হয়।
হাঁস-মুরগির সুষম খাদ্যের তালিকা
বয়স ভেদে হাঁস-মুরগিকে সাধারণত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
ক) ০.৮ সপ্তাহ বয়স )
(খ) ০-৮ সপ্তাহ বয়সের বাচ্চার খাদ্য তৈরির নমুনা
(গ) ২০ সপ্তাহ থেকে উপরের বয়স।

এ ১০০ কেজি তৈরি খাবারে প্রায় ২০% আমিষ এবং ২৭০০ কিলোক্যালরি শক্তিমান সর্বোমোট থাকবে। গমের মিহি ভূষির পরিবর্তে চাউলের কুঁড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে।(ঘ) ১-২০ সপ্তাহ বয়ানের বাড়ন্ত হাঁস-মুরগির থানা তৈরির নমুনাঃ

এ তৈরি খাবারে প্রায় ১৮% আমিষ এবং ২৭০০ কিলোক্যালরি শক্তিমান থাকবে। বড় হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরির নমুনাঃ

এ তৈরি খাবারে প্রায় ১৬% আমিষ এবং ২৮৫০ কিলোক্যালরি শক্তিমান থাকবে। সর্বোমোট ০-৮ সপ্তাহ ব্রয়লারের খাদ্য তৈরির নমুনাঃ

এ তৈরি খাবারে আমিষের পরিমাণ থাকবে প্রায় ২২-২৩% এবং ৩২০০ কিলোক্যালরি শক্তিমান থাকবে।
খাদ্য তৈরি করার প্রক্রিয়া
সয়াবিন বা চীনা বাদামের থৈল পাওয়া গেলে তিলের তৈলের পরিবর্তে অথবা আনুপাতিক হারে সব কয়টি বা যে কোন একটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সরিষার খৈল সাধারণত হাঁস-মুরগির খাদ্যে ব্যবহার করাই ভালো। খাদ্যের সমস্ত উপকরণ গুঁড়া করে একত্রে মিশিয়ে যে দানাদার খাদ্য তৈরি করা হয় তাকে ম্যাশ খাদ্য বলে। ম্যাশ খাদ্য পশুখাদ্য তৈরির মিলে তৈরি করা যায়। মিল না থাকলে হাতে মিশিয়ে তৈরি করা যায়। হাতে মিশানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে সমস্ত উপকরণগুলো ভালোভাবে মিশে যায়।
হাঁস-মুরগির জন্য গুঁড়া বাবার বা ম্যাশ এবং পিলেট বা বড়ি উত্তরা প্রকারের খাদ্য ব্যবহার করা যায়। পিলেট খাদ্য মিল ছাড়া তৈরি করা যায় না। পিলেট বাবার হাঁসের জন্য অধিকতর উপযোগী। এতে না কম হয়। তৈরি খাদ্য দীর্ঘদিন শুদামজাত করে রাখা ঠিক নয়। শুকনা আ বাতাস পূর্ণ ঘরে সুষ্ঠুভাবে খাদ্য সংরক্ষণ করতে হয়।
সাতিস্যাঁতে ঘরে গুদামজাত খাদ্যে। বিষাক্ত ছত্রাক জন্যে। জমাট বাঁধা ছত্রাক জন্মানো খাবার কখনো হাঁস-মুরগিকে খাওয়ানো যাবে না। আজকাল বাজারে তৈরী খাদ্য কিনতে পাওয়া যায়। তবে এসব খাদ্য ব্যবহারের পূর্বে এদের গুণাগুণ, উপাদান মান এবং কত দিন পূর্ব তৈরি তা অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। বিভিন্ন বয়সের হাঁস-মুরগির দৈনিক গড় খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ

হাঁস-মুরগির খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ সাধারণত জাত, ওজন, বয়স এবং অনেকটা আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল। ওজনে ভারি জাতের হাঁস-মুরগির খাদ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে হাল্কা জাতের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। ঘরের তাপমাত্রা, মুরগির স্বাস্থ্য এবং খাদ্য উপাদানের উপরও খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে।
সাধারণত পানি গ্রহণের পরিমাণ খাদ্য গ্রহণের শিক্ষণ হয়ে থাকে। পানি গ্রহণের পরিমাণ মুরগির ঘরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং সরবরাহকৃত পানির তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ ঘরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বাড়লে পানি গ্রহণের পরিমাণ বাড়বে এবং সরবরাহকৃত পানি গরম বা অত্যধিক ঠাণ্ডা হলে পানি গ্রহণের পরিমাণ কমে যাবে। গরমের সময় পানি গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখিত পরিমাণের দ্বিগুনেরও বেশি হতে পারে। প্রতি ডিগ্রী তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে পানি গ্রহণের পরিমাণ ৪% হারে বৃদ্ধি পায়।
সারমর্ম
লাভজনকভাবে হাঁস-মুরগি পালনের জন্য সুষম খাবার দিতে হয়। হাঁস-মুরগির খাদ্যে ৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত ২০%, ৯-২০ সপ্তাহ পর্যন্ত ১৮% এবং ২০ সপ্তাহের বেশি বয়সের জন্য ১৬% আমিষ থাকতে হয়। ভারী জাতের হাঁস-মুরগির জন্য হালকা জাতের চেয়ে বেশি খাবার ও পানির দরকার হয়।
গরমের সময় পানি গ্রহণের পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। স্যাতস্যাতে ঘরে গুদামজাত খাদ্য জমাট বেঁধে যায় এবং এতে বিষাক্ত ছত্রাক জন্যে। জমাট বাঁধা বা ছত্রাক জন্মানো খাদ্য কখনও হাঁস-মুরগিকে খাওয়ানো উচিত নয়।
