নওগাঁ, ৬ মার্চ, ২০২৫ (বাসস): বরেন্দ্র জেলা হিসেবে পরিচিত নওগাঁ জেলার কৃষকরা এবার গম চাষে ফিরছেন। চলতি মৌসুমে জেলার ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
এক সময় নওগাঁর উঁচু বরেন্দ্রভূমি এলাকায় প্রচুর গম চাষ হত, কিন্তু ভালো দাম না পাওয়া ও ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে গম চাষে বিরতি এসেছিল। তবে বর্তমানে কম খরচ ও ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা আবারও গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তারা জানাচ্ছেন, গত বছর গমের ফলন ভালো হয়েছিল এবং স্থানীয় বাজারে দামও সন্তোষজনক ছিল।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া গম চাষের জন্য অনুকূল রয়েছে, এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। যদি আবহাওয়া ঠিক থাকে, তাহলে এবারও ভালো ফলন আশা করছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ রবি মৌসুমে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ১৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে, যা গত বছরের ১৬ হাজার ১০০ হেক্টরের তুলনায় বেশি।
এ বছরের গমের আবাদ সাপাহার, পোরশা, পত্নীতলা, রাণীনগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পোরশা উপজেলায় ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে।
পোরশা উপজেলার গাঙ্গুরিয়া গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তিনি এবারে ৪ বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছেন এবং এখন পর্যন্ত কোন রোগবালাই হয়নি। গতবারের তুলনায় এবার গমের দাম ভালো থাকায় তিনি আশা করছেন, ৫৫-৬০ মণ গম পাবেন।
নওগাঁ সাপাহরের কৃষক কুমুজ আলী বলেন, গম চাষে পরিশ্রম কম এবং বীজ রোপণ ও ফসল কেটে ঘরে তোলার মতো কাজ ছাড়া তেমন কিছু করতে হয় না। অন্যান্য ফসলের তুলনায় গম চাষে অনেক সুবিধা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, গম চাষের জন্য পানি কম জমে এমন উঁচু জমি উপযোগী, যা নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যায়। এছাড়া, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৫০০ প্রান্তিক কৃষককে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের গম চাষে আগ্রহী করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
