আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পশুপাখির উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব – যা কৃষি ও জলবায়ু এর অন্তর্ভুক্ত ।
Table of Contents
পশুপাখির উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মানুষ কর্তৃক পরিবেশ ধ্বংসই জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। আমাদের দেশ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন:- জলোচ্ছ্বাস, সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বায়ুপ্রবাহ, বন্যা ও খরা প্রভৃতি কারণে পশুপাখির ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়তই এদেশে আঘাত হানছে।
ফলে খামারি বা কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারছে না। এসব ক্ষতির পরিমাণ খানিকটা পুষিয়ে নিতে দুর্যোগকালীন ও দুযোর্গ পরবর্তী সময়ের জন্য কতকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাস্তবতা মেনে নিয়েই সামুদ্রিক ঝড়, টর্নেডো, বন্যা, খরা, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রতিরোধক বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র ভূমির শালবন, রাজশাহী অঞ্চলের পত্নীতলা ও নঙ্গীপুরের জঙ্গল সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলে প্রচন্ড খরা হচ্ছে। এসব বনাঞ্চল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও উপকূলীয় বনায়ন পরিকল্পনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের অশ্রেণিভূক্ত বনাঞ্চলে বনায়ন সম্প্রসারণ, দেশের নদ-নদী খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন এবং ছোট বড় পাহাড় রক্ষার পরিবেশ আইন অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে ।
বন সম্প্রসারণে দীর্ঘ মেয়াদী ও স্থায়ী ব্যবস্থা, যেমন:- সামাজিক বনায়ন সম্প্রসারণসহ ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে । এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হলে জলবায়ুর পরিবর্তনে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশের পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীদের রক্ষা করা যাবে। এখানে জলবায়ু পরিবর্তনে পশুপাখির সমস্যা মূল্যায়নের বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হলো।

খরাজনিত সমস্যা
- খায় যেসব সমস্যা দেখা যায় সেগুলো নিম্নরূপ:-
- পানি দূষিত হয়।
- কাঁচা ঘাসের অভাব হয়।
- মাঠ-ঘাটের ঘাস শুকিয়ে যায়।
- পৰাদিপশু অপুষ্ঠিতে ভোগে।
- পৰাদিপশুর বিভিন্ন রোগব্যাধি দেখা দেয়।
- পশুর বহিঃদেশের পরজীবীর উপদ্রব বৃদ্ধি পায় ।
- অধিক তাপে পশুপাখির অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- গবাদিপশুর স্বাস্থ্যের অবনতিসহ মৃত্যুর আশঙ্কা দেখা যায়।
- তাপপীড়নে খামারে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির মৃত্যু হয় ।
বন্যাজনিত সমস্যা
বন্যার সময় যেসব সমস্যা দেখা যায় সেগুলো নিম্নরূপ:-
- দেশের অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায় ।
- জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
- গোখাদ্য পাওয়া
- পানি দূষিত হয়।
- পশুপাখি রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যার সৃষ্টি হয় ।
- গবাদিপশু অপুষ্ঠিতে ভোগে।
- বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও কৃমির আক্রমণ বৃদ্ধি পায় ।
- ঘাসে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়, গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ে ।
- পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয় ও অনেক পশুপাখির মৃত্যু ঘটে।
জলোচ্ছাসজনিত সমস্যা
জলোচ্ছ্বাসের সময় যেসব সমস্যা দেখা যায় তা নিম্নরূপ:-
- জলোচ্ছ্বাস কবলিত এলাকার পানি দূষিত হয়।
- জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ের ফলে বহু গবাদিপশু ও জীবজন্তু তাৎক্ষণিকভাবে মারা যায়।
- মৃত গবাদিপশু সৎকারের অভাবেও পরিবেশ দূষিত হয় ।
- পশু খাদ্যের অভাব দেখা দেয়।
- জীবিত গবাদিপশু উদরাময়, পেটের পীড়া ও পেটফাপাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
সারাংশ
তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মানুষকর্তৃক পরিবেশ ধ্বংস জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। এদেশে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন:- জলোচ্ছ্বাস, সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বায়ুপ্রবাহ, বন্যা ও খরা ইত্যাদির কারণে অপুষ্টি, বিষক্রিয়া, রোগব্যাধিসহ পশুপাখির ব্যাপক ক্ষতি হয় । তাছাড়া মৃত পশুপাখির কারণে পরিবেশেরও দুষণ ঘটে।
