আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-ব্যবহারিক: পাট জাগ দেয়ার উন্নত পদ্ধতি। পাটের পচন বা রেটিং পাট উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাট আঁশের গুণাগুণ পাট পচনের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের সর্বত্র পাট পচন ব্যবস্থা ও সমস্যা এক রকম নয়। পাট পচন পানির প্রাপ্যতা ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক ব্যবস্থা/সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে এলাকাভিত্তিক পাট পচন ব্যবস্থারও তারতম্য হয়। অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ববাজারে পাটের মূল্য এর মানের ওপর নির্ভর করে।
মান বিবেচনায় বিশ্ববাজারে সমাদৃত বাংলাদেশের পাট এক সময় সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু নানাবিধ কারণে ক্রমাগত পাট আঁশের মান খারাপ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় পাট আঁশের মান নিম্ন হওয়ার কারণে কৃষকগণও এর আশানুরূপ মূল্য পাচ্ছেন না। যেহেতু জমির শস্যপর্যায়িক চাহিদা, কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও নানাবিধ প্রয়োজনে বাংলাদেশে পাট চাষ অব্যাহত থাকবে, তাই কৃষক ও দেশের সার্বিক স্বার্থেই উন্নত পাট পচন প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত মানের আঁশ উৎপাদন করে কৃষক তথা দেশের আয় ও সুনাম বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন।
বাংলাদেশে সাধারণত দুইভাবে পাট পচানো হয়। প্রচুর পানি অঞ্চল ও স্বল্প পানি অঞ্চলে পাট পচানো। প্রচুর পানি অঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে পাট পচানো সম্ভব। কিন্তু যেখানে পানির স্বল্পতা আছে সেসব অঞ্চলে রিবন রেটিং বা পাটের ছালকরণ ও পচন পদ্ধতির মাধ্যমে পাট পচাতে হয়।
ব্যবহারিক: পাট জাগ দেয়ার উন্নত পদ্ধতি

বিষয়: পাট জাগ দেয়ার উন্নত পদ্ধতি
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- পাট
- বাঁশ
- রশি
- কম প্রোডযুক্ত পানি বা বদ্ধ পানি
- কচুরিপানা বা পাথর বা কংক্রীটের খন্ড
- ইউরিয়া

কাজের ধারা
১। পাট কাটার পর চিকন ও মোটা পাট বাছাই করে পৃথক পৃথকভাবে ছোট ছোট আঁটি বেঁধে নিন।
২। আঁটিগুলোর একটির মাথা অন্যটির গোড়া দ্বারা ঢেকে ৪-৫ দিন স্তূপ করে রাখার পর ঝাড়া দিলে পাতা ঝরে পড়বে।
৩। এরপর পানির ভিতর ৩-৪ দিন গোড়া নিচের দিকে রেখে স্তূপ করে রাখতে হবে যাতে গোড়াতে আগেই পচন ক্রিয়া শুরু হয়।
৪। আঁটিগুলোর গোড়া মাথা একসাথে সাজিয়ে নিয়ে বর্গাকার বা আয়তাকার জাগ তৈরি করে নিন। এর উপর একই নিয়মে আরও একটু স্তর সাজান।
৫। বন্ধ পানিতে জাগ দিলে সেক্ষেত্রে প্রতি ১০০ আঁটির জন্য ১ কেজি হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করুন।
৬। জাগ দেয়ার সময় যাতে জাগের উপর কমপক্ষে ৩০ সে.মি. এবং নিচে কমপক্ষে ৬০ সে.মি. পানি থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৭। বিজ্ঞানসম্মত উপায় হলো বাঁশ বা কাঠের খুঁটির সাথে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া। তবে কচুরিপানা, পাথর বা কংক্রীটের খন্ড দিয়েও ডুবানো যেতে পারে।
৮। তত্ত্বীয় অংশের বর্ণানুযায়ী পাটের পচনক্রিয়ার শেষ সময় নির্ণয় করুন এবং শুকনো জায়গায় বসে বা কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে পাটের অংশ পৃথক করে নিন।

৯। এরপর আঁশগুলো পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিয়ে বাঁশের আড়ায় শুকিয়ে নিন এবং ভালো করে বেঁধে সংরক্ষণ
১০। পাট জাগ দেওয়ার পদ্ধতিটি অনুশীলন করুন এবং তা আপনার ব্যবহারিক খাতায় লিপিবদ্ধ করুন ।
