আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পারিবারিক খামারের তথ্য লিপিবদ্ধ করা – যা কৃষি সমবায় ও পারিবারিক খামার এর অন্তর্ভুক্ত। পারিবারিক কৃষি খামারকে সাম্প্রতিক সময়ে একটি লাভজনক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত পারিবারিক কৃষি খামারের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সম্পত্তির বিবরণ বা বা বিনিয়োগের যাবতীয় তথ্য, আয়ের সকল তথ্য এবং মুনাফার তথ্য লিপিবদ্ধ করে বাৎসরিক নীট মুনাফা হিসাব করা যায় । নিচে একটি নমুনা উপস্থাপন করা হলোঃ
পারিবারিক খামার : বিসমিল্লাহ পারিবারিক খামার
মালিকের নাম : সামসউদ্দিন
ঠিকানা : গ্রাম-নাগা, মৌজা- সালনা, ডাকঘর- বশেমুরকৃবি, গাজীপুর সিটিকর্পোরেশন, গাজীপুর।
পারিবারিক খামারে মোট জমির পরিমান : ২ বিঘা (আশি শতাংশ)
উঁচু জমি : ৪০ শতক
মাঝারি নিচু জমি : ১৫ শতক
বসত বাড়ি : ১০ শতক
পুকুর : ১৫ শতক
Table of Contents
পারিবারিক খামারের তথ্য লিপিবদ্ধ করা
স্থায়ী খরচ
মুরগীর খামারে বাচ্চা তোলার আগে যে সমস্ত খরচ হয় তাকে স্থায়ী খরচ বলে। স্থায়ী খরচের মধ্যে জমি, মুরগির ঘর ব্রুডার যন্ত্র, খাদ্য পাত্র ও পানির পাত্র, ড্রাম ও বালতি, ডিম পাড়ার ঘর, আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি উল্লেখযোগ্য । নিচে ১৫০ টি ডিম পাড়া মুরগি পালনের ব্যয় হিসাব করার একটি ছক দেওয়া হলোঃ

চলমান খরচ
খামারে বাচ্চা এনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন যে আবশ্যিক খরচ হয় তাকে চলমান ৱচ বলে। বাচ্চা পালন কালে শতকরা ২-৫% মৃত্যহার বিবেচনা করে মুরগীর বাচ্চা এনা করতে হবে। এছাড়া চলমান অন্যান্য খরচের মধ্যে খাদ্য এনা, বিদ্যুৎ খরচ, টিকা ও ঔষধ, লিটার ক্রমিক এবং পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য। ডিম পাড়া মুরগির খামারে থাকার স্থিতিকাল মোটামুটিভাবে ১৮ মাস। এসকল পারিপার্শিকতা বিবেচনায় নিয়ে পারিবারিক খামারে ১৫০ টি মুরগি পালনের চলমান খরচের হিসাব নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

প্রকৃত ব্যয় হিসাব করার জন্য মোট চলমান খরচের সাথে অপচয় খরচ হিসাব করতে হবে। অপচয় খরচ নিম্নলিখিত ৩টি খাতে হিসাব করা যেতে পারে ।
ক) মুরগীর ঘরের উপর ( ২০০০০/- এর ৫%) = ১০০০/-
খ) যন্ত্রপাতির উপর (১১০০০/- এর ১০%) = 1100
গ) মোট চলমান খরচের উপর (২৫৯৭০০/- এর ৫% ) = ১২৯৮৫/-
মোট অপচয় ব্যয় = (১০০০+১১০০ + ১২৯৮৫) = ১৫০৮৫/- অতএব মোট ব্যয় = মোট স্থায়ী খরচ + মোট চলমান খরচ + মোট অপচয় ব্যায়
= ৩১০০০ + ২৫৯০০+১০০৮৫.
= ১০০৮০০/-
আয়
পারিবারিক মুরগীর খামারে আয়ের প্রধান উৎস হলো মুরগীর ডিম ও বয়স্ক মুরগী। এছাড়া লিটার এবং খাদ্যের বস্তা বিক্রি করেও আয় করা যায়। ডিম পাড়া শেষে প্রতিটি মুরগি বাজারে বিক্রি করা যায়। এছাড়া লিটার জৈব সার হিসাবে জমিতে এবং মাছের খাদ্য হিসাবে পুকুরে ব্যবহার করা যায়। সুতরাং ১৫০ টি মুরগী দিয়ে শুরু করা একটি পারিবারিক খামারে আর নিম্নরুপঃ

সুতরাং মোট লাভ / নীট মুনাফা = মোট আয় মোট ব্যয়
= ৩৮৫৪৪০- ৩০৫৭৮৫/-
=৭৯,৬৫৫/- অতএব, সার্বিক হিসাব বিবেচনা শেষে দেখা যাচ্ছে মোট খরচ বাদ দিয়ে প্রথম বছরে নীট = ৭৯,৬৫৫/- লাভ হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
পারিবারিক খামার একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক খাত বিবেচনায় নিয়ে একটি আয়ের হিসেব শুরুতেই জানা থাকলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত গ্রহনে সহজ হয়। সর্বোপরি নটি মুনাফার একটি অগ্রিম ধারনা থাকবে বলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় উৎসাহ পাওয়া যায়।
