মজুদ পুকুরে মাছ চাষ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-মজুদ পুকুরে মাছ চাষ

Table of Contents

মজুদ পুকুরে মাছ চাষ

মজুদ পুকুরে ৮-১২ সে.মি. আকারের পোনা ছেড়ে খাওয়ার উপযোগী করা হয়। এ মাহ বাজারে বিক্রি করা হয়। মজুদ পুকুরকে বড় মাছের পুকুরও বলা হয়। মাছ চাষ মূলত কৃষির মতই চাষাবাদ পদ্ধতি। কোন জলাশয়ে বা পুকুরে প্রাকৃতিক উপায়ে যে মাছ উৎপাদিত হয় তা মাছ চাষ।

সাধারণভাবে মজুদ পুকুরে মাছ চাষ পদ্ধতিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

১। সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষ।

২। আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষ।

৩। নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষ।

নিচে এসব পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-

সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষ:

এ পদ্ধতিতে পুকুরের কোন ব্যবস্থাপনা ছাড়াই, মাটি ও পানির স্বাভাবিক উর্বরতায় পানিতে যে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয় মাছ তাই খেয়ো জীবন ধারণ করে। পোনা ছাড়ার সময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সঠিক সংখ্যানা ছাড়া হয় না এবং কোন পরিচর্যা করা ।

আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষ :

এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার কিছুটা উন্নয়ন ঘটানো হ্যা। অর্থাৎ নিয়মিতভাবে পুকুর প্রস্তুত করে আংশিক সার ও খাদ্য সরবরাহ করে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপন্ন করা হয়। পুকুরের বিভিন্নস্তরে উৎপাদনের জন্য সার ব্যবহার করে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানো হয়।

নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষ:

বাহির থেকে উন্নতমানের খানা সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় উপকরণের যথাযথ সমন্বয় ঘটিয়ে উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যে চাষ করা হয় তাকে নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ বলে। এ পদ্ধতিতে প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার করা হয়। তাই সনাতন ও আধা-নিবিড় পদ্ধতির চারা এ পদ্ধতিতে পুকুরের সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা পর্যন্ত মাছ উৎপন্ন করা যায়।

কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ

বুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, বিগহেড, সিলভার কার্প, কমন কার্প ইত্যাদিকে কার্প জাতীয় মাছ বলা হয়। এসব প্রজাতির মাছ পুকুরের বিভিন্ন স্তর থেকে খাবার খান। তাই বিভিন্ন স্তরে উৎপন্ন খাবার সম্পূর্ণ ব্যবহার করার জন্য নানা প্রজাতির মাছ একত্রে চাষ করা হয়। এরূপ চাষ করাকে মিশ্র চাষ বলা হয়। এ ধরনের মাছ চাষের জন্য প্রয়োজন-

১। উর্বর মাটি ও পানি।

২। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস

৩। সুস্থ আলো-বাতাস

৪। সার

৫। সম্পূরক খাদ্য,

৬। সুষ্ঠু পরিচর্যা।

মাছ চাষের বিভিন্ন পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলো।

১। পুকুর নির্বাচন

২। পুকুর প্রস্তুতকরণ

৩। পোনা মজুদ

৫। সম্পূরক

৬। সুষ্ঠু পরিচর্যা

১। পুকুর নির্বাচন

পুকুর নির্বাচনের সময় স্থান, মাটি গুনাগুণ, আকার ও গঠন, পানির গভীরতা ও পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে বিবেচনা করতে হবে।

ক. পুকুরের স্থান:

পুকুরের জন্য খোলামেলা স্থান নির্বাচন করতে হবে। বাড়ির আশেপাশে হলে ভালো হ্যা। তাহলে সার ও খাবার সরবরাহ ইত্যাদি ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালনা করতে সুবিধা হবে। পুকুর যথাসময় কন্যামুক্ত এলাকায় নির্বাচন করা উচিত। কারণ আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছরেই বর্ষণ ও বন্যায় পুকুর ভেসে যায়। এতে চাষকৃত মাছ বন্যার পানিতে বেরিয়ে যায়।

খ. মাটির গুণাগুণ:

মাটির গুণাগুণ পুকুরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- লাল ও এঁটেল মাটির পুকুরের পানি ঘোলা হয়। ঘোলা পানির উৎপাদনশীলতা কম। আবার মাটি যদি বেলে হয় তাহলে শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না। সাধারণত দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ ও এঁটেল মাটি পুকুরের জন্য ভালো।

গ. পুকুরের আয়তন:

পুকুর যে কোন আয়তনের হতে পারে। তবে কমপক্ষে ২০ শতাংশ হতে হবে। ২০ শতাংশ থেকে ১ একর আকারের পুকুনা বেশি উপযোগী।

ঘ. পানির গভীরতা:

মাছ চাষের জন্য পুকুরের গভীরতা একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়। পানির গভীরতা বেশি হলে সূর্যের আলোর অভাবে পুকুরের তলদেশে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন কম হন। আবার কম গভীর হলে পুকুরের পানি বেশি গরম হয়ে যায়, এতে মাছের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পুকুরের গভীরতা ২-২.৫ মিটার গভীরতা বেশি হলে সূর্যের আলোর অভাবে পুকুরের তলদেশে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন কম হয়। আবার কম গভীর হলে পুকুরের পানি বেশি গরম হয়ে যায়, এতে মাছের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পুকুরের গভীরতা ২-২.৫ মিটার রাখা

ঙ. পরিবেশ;

পুকুর পাড়ে বড় গাছ বা ঝোপ থাকা উচিত নয়। বড় গাছের পাতা পড়ে পুকুরের পানি নষ্ট হতে পারে। বড় গাছ পুকুরে সূর্যের আলো পড়তে বাধার সৃষ্টি করে। ঝোপঝাড়ে মৎস্যভুক ও ক্ষতিকর প্রাণী বসবাস করতে পারে।

২। পুকুর প্রস্তুতি:

চাষাবাদের জন্য ফসলের জমি যেমন প্রস্তুত করতে হ্যা মাছ চাষের জন্য তেমনি পুকুর প্রস্তুত করতে হয়। পোনা ছাড়ার পূর্বে পুকুর প্রস্তুতি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পুকুরে মাছ চাষ করতে হলে জলজ উদ্ভিদের প্রয়োজন আছে। জলজ উদ্ভিদেই মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য। কিন্তু কোন কোন জলজ উদ্ভিদ অতিরিক্ত পরিমাণে জন্মালে তা মাছের ক্ষতিকর। তাই জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রন করা প্রয়োজন। সাধারণত চারটি উপায়ে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিচে এর বর্ণনা দেয়া হলো

ক. কায়িক শ্রম দ্বারা

শ্রমিক নিয়োগ করে হাত দিয়ে জলজ উদ্ভিদ শিকড়সহ তুলে ফেলতে হবে। উপড়ানো আগাছাগুলো এক জায়গায় একটি গর্তের মধ্যে পচিয়ে সবুজ সার হিসাবে পুকুরে ব্যবহার করা হবে।

জৈব প্রক্রিয়া

মোস কার্প ও গাই সরপুঁটি উদ্ভিদভোজী মাছ। এসব মাছ পুকুরে ছাড়লে পুকুরে আগাছা খেয়ে পানিতে মলত্যাগ করে। এই মল পানিতে পচে অন্য মাছের খাদ্য উৎপাদনে সাহায্যে করে। এ প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন বিনা খরচে আগাছা নিয়ন্ত্রিত হয় অন্যদিকে মাছের ফলনও অনেকাংশ বৃদ্ধি পায়।

গ. রাসায়নিক প্রক্রিয়া

বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য যেমন- ২-৪ ডাইক্লোরোবেনজিন, এ্যাকুয়াদল ইত্যাদি ব্যবহার করে জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শেওলাজাতীয় উদ্ভিদের অপসারণ করার জন্য কপার সালফেট বা তুঁতে ব্যবহার করা যায়। প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিগ্রাম কপার সালফেট ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। অতিরিক্ত কপার সালফেট মাছের জন্য বিষাক্ত।

ঘ. পুকুর সেচের মাধ্যমে

পুকুর সেচ দেয়া সম্ভব হলে সেচকৃত পুকুরের তলদেশের কানা কিছু পরিমাণ তুলে ফেলতে হয়। এটি আগাছা পরিষ্কারের সর্বোত্তম পদ্ধতি।

রাক্ষুসে প্রাণী এবং অবাঞ্চিত মাছ অপসারণ

যেসব পুকুরে রাক্ষুসে এবং অবাঞ্ছিত মাছ ও প্রাণী রয়েছে সেসব বাসে প্রাণী ও মাছ নমন করতে হবে। সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি ক্ষতিকর প্রাণী। বোয়াল, টাকি, গজার ও ফলি ইত্যাদি রাখুসে মাছ এবং চেলা, চান্দা ও ডানকিনা ইত্যাদি অবাঞ্চিত মাছ। এরা পুকুরে থাকলে চাষযোগ্য পোনা খেয়ে ফেলে অথবা পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য খেয়ে নেয়। কাজেই এদের দমন করতে হবে। সাধারণত তিন উপায়ে এদের অপসারণ করা যায়।

ক. পানির সেচের মাধ্যমে।

খ.জাল টেনে।

গ. বিষ বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে।

রাক্ষুসে মাছ অপসারণের উপায়

পুকুর শুকনো

পুকুরের সমস্ত পানি সেচ দিয়ে ফেলে সকল মাছ ধরে ফেলা যায়। পুকুর শুকনোর পর তলদেশ প্রখর রোদে কমপক্ষে এক সপ্তাহ শুকাতে হবে। যাতে কাদার মধ্যে মাছ লুকিয়ে থাকতে না পারে। ফাল্গুন থেকে বৈশাখ র মধ্যে মাসে এ কাজটি করা সবচেয়ে ভালো।

জাল টেনে রাখুসে মাছ দমন

যেসব পুকুরে রাক্ষুসে মাছ কম এবং পানির গভীরতা কম সেখানেই এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা যায়। জাল টানার সময় জালের ফাঁক দিয়ে মাছ বেরিয়ে যেতে পারে। সেজন্য জালের তলার অংশে ভারী বস্তু যেমন- ইট বুলিয়ে খুব আস্তে আস্তে টানতে হয়।

রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার

অনেক সময় জাল টেনে সব মাছ ধরা যায় না। আবার পুকুর শুকনো হলে পুনরায় পানি সরবরাহের অসুবিধা থাকতে পারে। তাই বর্তমানে ব্লিচিং পাউডার, রোটেনন, ফসটক্সিন ইত্যাদি রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে রাখুসে মাছ নমন করা হয়ে থাকে। নিচে কয়েকটি রাসায়নিক প্রব্যের ব্যবহার মাত্রা দেওয়া হলো।

রাসায়নিক দ্রব্য                                  পানির আয়তন (শতাংশ)                                      পানির গড় গভীরতা                             ব্যবহার মাত্রা

ব্লিচিং পাউডার                                      ১                                                                    ৩০ সে.মি. (১ ফুট)                                 ৯০০ গ্রাম পাউডার

রোটেনন                                              ১                                                                    ৩০ সে.মি. (১ ফুট)                                  ৩৫ গ্রাম পাউডার

ফসটক্সিন                                           ১                                                                      ৩০ সে.মি. (১ ফুট)                                   ১ টি ট্যাবলেট

রোটেনন বা ব্লিচিং পাউডার পানিতে গুলে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে নিতে হয়। ফসটক্সিন ট্যাবলেট সমানভাবে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হয়। এসব ওষুধ প্রয়োগের ১-২ ঘণ্টা পর জান টেনে দিলে তাড়াতাড়ি কার্যকর হয়। ওষুধের বিষক্রিয়া প্রয়োজন হন না। রোটেনন ও ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগে করার পর যেসব মাছ মারা যায়, তা খেলে ক্ষতি হয় না। তবে ফসটক্সিন প্রয়োগ মাছ না খাওয়াই ভালো। পুকুর থেকে রাক্ষুসে মাছ অপসারণের পর চুন ব্যবহার করতে হয়। ঘুন পুকুরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় উপাদান।

– চুন মাছের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে।

– ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংস করে।

– চুন পানি ও মাটির অম্লত্ব দূর করে।

প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। যদি পুকুরে পানি থাকে তবে ড্রাম বা বালতিতে গুলে ঠাণ্ডা করে সমস্ত পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।

চুন প্রয়োগের নিয়ম:

বালতি বা ড্রামের মধ্যে অথবা পুকুরের পাড়ে গর্ত করে পানিতে ভুল ভেজাতে হবে। কিছুক্ষণ পারে চুন ফুটে ঠান্ডা হয়ে গেলে পানি মিশ্রিত চুন সমস্ত পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। চুন প্রয়োগের ৭-৮ দিন পর পুকুরে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সার প্রয়োগ

সার প্রয়োগে পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপন্ন হয়। মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপানের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি মৌল উপাদন প্রয়োজন। পুকুর থেকে মাছ আহরণ, পানি পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক কারণে এসব উপাদান অপড়া হয়। তাই এসব উপাদান পূরণ করার জন্য পুকুরে সার ব্যবহার করা হয়। সার সাধারণত দুই প্রকার হতে পারে। যেমন- জৈব সার এবং অজৈব বা রাসায়নিক गा।

জৈব সার

প্রাণী ও উদ্ভিদ থেকে যে সব সার পাওয়া যায় তাকে জৈব সার বলে। যথা- – বিষ্ঠা, সবুজ সার, কম্পোস্ট ইত্যাদি।অজৈব সার ইউরিয়া, টি.এস.পি. এবং এম পি ইত্যাদি রাসায়নিক বা অজৈব সার। ক্ষুদ্র উদ্ভিদ (ফাইটোপ্লাংকটন) প্রচুর পরিমাণে জন্মানোর জন্য টি.এস.পি এবং ইউরিয়া পুকুরে সার প্রয়োগ করতে হয়। সঠিকভাবে পুকুরে সার প্রয়োগ করা হলে অনেক বেশি পরিমাণে মাহ উৎপাদন সম্ভব।

পুকুরে সার প্রয়োগ

মাটির গুণাগুণের উপর পুকুরে সার প্রয়োগ মাত্রা নির্ভর করে। বেলে ও এঁটেল মাটির সো আঁশ মাটির চেয়ে বেশি সার দিতে হয়। যেসব পুকুরের মাটিতে বালির ভাগ বেশি সেসব পুকুরে বেশি পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করা হলে বাঞ্চিত ফল লাভ করা যায়। খুব পুরানো পুকুরে সার কম লাগে। কারণ এসব পুকুরের তলদেশে প্রচুর পরিমানে জৈব পদার্থ থাকে। আবার নতুনভাবে মাটি কেটে তৈরি করা পুকুর বা সংস্কার করা পুকুরে জৈব সার বেশি প্রয়োগ করতে হয়। সার দুটি পর্যায়ে পুকুরে প্রয়োগ করা উচিত। প্রথম পর্যায়ে পুকুর প্রস্তুত করার সময় অর্থাৎ পোনা ছাড়ার পূর্বে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে পোনা ছাড়ার পরবর্তী সময়ে।

পুকুর প্রস্তুতকালীন সময়ে সার ব্যবহার

মজুদ পুকুরে মাছ চাষ

পুকুরে পোনা মজুদ পরবর্তী দৈনিক সার ব্যবহার

মজুদ পুকুরে মাছ চাষ

 

পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা

পুকুরে সার প্রয়োগ করার পর পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য যথাযথ পরিমাণে উৎপাদিত হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। কারণ প্রাকৃতিক এসব খাদ্য মাছের প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। প্রাকৃতিক খাদ্যসমৃদ্ধ পানির রং সাধারণত সবুজ থেকে বাদামি হয়।

একটি গাছকাচের গ্লাসে পুকুর থেকে পানি নিয়ে দিনের আলোরা গ্লাসটিকে বাইরে থেকে লক্ষ্য করতে হবে। যদি পানির মধ্যে ছোট পোকার মত দেখায় তবে বুঝতে হবে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়েছে। পোকার ঘনত্ব বা পরিমাণের উপর নির্ভর করে খাদ্য উৎপাদনের হার সনাক্ত করা সম্ভব। পুকুরের পানিতে প্রাকৃতিক খাবারের উপস্থিতি অন্যভাবেও পরীক্ষা করা যায়। পুকুরের পানিতে উপর থেকে কনুই পর্যন্ত হাত ডুবিয়ে উপর থেকে তালু লক্ষ্য করতে হবে, যদি হাতের তালু দেখা না যায় তবে বুঝতে হবে পুকুরে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক খাদ্য আছে।

কীট-পতঙ্গ দমন :

পুকুরে সার দেওয়ার পর ছোট ছোট কীট-পতঙ্গ বা পোকামাকড় জন্মাতে পারে। পোনা মাছ মজুদের পূর্বে প্রতি শতাংশ ৩০ সে.মি. গভীরতার পানির জন্য ডিস্টেরেক্স ১২ গ্রাম বা সুমিথিয়ন ৩ গ্রাম হারে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।

এগুলো অবশ্যই দমন করতে হবে। মাছ চাষের জন্য এগুলো ক্ষতিকর।

৩। পোনা মজুদ :

পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মালে পোনা মজুদ করতে হবে। পোনার আকার ৮-১২ সে.মি. হলে ভালো হয় কারণ এতে মৃত্যু হার খুব কম থাকে। পুকুরের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী পোনা ছাড়ার হার কিছু কম-বেশী হতে পারে। সাধারণত

নিম্নোক্ত হারে পোনা ছাড়া যায়-

মজুদ পুকুরে মাছ চাষ

 

৪। পোনা অবমুক্ত করার পদ্ধতি

পোনা হাঁড়ি বা পলিথিন ব্যাগে পরিবহন করা হলে পলিখিন ব্যাগের মুখ খোলার আগে পুকুরের পানিতে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ব্যাগের মুখ খুলে ধীরে ধীরে ব্যাগের পানি পুকুরে এবং পুকুরের পানি ব্যাগে ভরতে হবে। এতে ব্যাগের পানি ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা যখন সমান হবে তখন পাত্র বা ব্যাগের মুখ পানিতে কিছুটা ডুবিয়ে কাত করে সমস্ত পোনা পুকুরে অবমুক্ত করতে হবে। সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ মাছের খাদ্য হিসেবে বাইরে থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।

খৈল, কুঁড়া ও ভূষি ইত্যাদি সম্পূরক খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মাছের খাদ্য গ্রহণের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। সেজন্য সকাল ও বিকেল অর্থাৎ দিনে দুবার খাদ্য সরবরাহ করা উচিত। মাছের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পরীক্ষা- জাল টেনে মাছ ধরে পরীক্ষা করতে হবে। সবসময় খেয়াল রাখতে হবে পুকুরের পানিতে যেন লাল আন্তরণ জমা না পড়ে। মাছ আহরণ মাছ আহরণ মাছ চাষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। মাছ নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এরপর খাদ্যগ্রহণ ক্রমাম্বরে বাড়লেও দেহের বৃদ্ধি সাধন হয় না। সেজন্য নির্দিষ্ট সময়ে আহরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রুই, কাতলা ও মৃগেল ৮-১২ মাসের মধ্যে ৭০০ গ্রাম থেকে ১.৫ কেজি, সিলভার কার্প, মিরর কার্প ও গ্রাসকার্প ৬-৭ মাসের মধ্যেই প্রায় ১.৫ কেজি হয়। পোনা মজুদের ৬-৭ মাসের মধ্যেই বড় হওয়া মাছ বিক্রি করতে হয়। মাছ বিক্রি করার পর পুকুরে সমপরিমাণ বড় পোনা ছাড়া উচিত। এতে মাছের উৎপাদন অনেক বেশি হয়।

সারমর্ম
  • নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষে প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার করা হয়।
  • কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, মিরর কার্প প্রভৃতি মাছের একত্রে চাষ করাকে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ বলে।
  • মাছ চাষের জন্য পুকুরে চুন ও সার প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Leave a Comment