ব্যবহারিক: ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-ব্যবহারিক: ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি

ব্যবহারিক: ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি

 

বিষয়-৩ঃধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি

প্রয়োজনীয় উপকরণ

বীজ কাদা বাঁশের চাটাই বা কলার ভেলা।

প্রাসঙ্গিক তথ্য

যখন কোন এলাকা সম্পূর্ণভাবে বন্যায় ডুবে যায় এবং চারা উৎপাদন করার মতো কোন জায়গা বা জমি থাকে না, সেক্ষেত্রে ভাসমান বীজতলা তৈরির মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা হয়।

 

ব্যবহারিক: ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি

 

কাজের ধারা

১। বাঁশের চাটাই দ্বারা মাচা তৈরি করে বা কলার ভেলা তৈরি করে তার উপর ২-৩ পরিমাণ সমান করে কাঁদার প্রলেপ দিন।

২। এরপর ভিজা বীজতলার মতো গজানো বীজ কাঁদার উপর ছিটিয়ে দিন।

৩। মাচা বা কলার ভেলা যাতে বলার পানিতে ভেসে না যায় সেজন্য খুঁটির সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখুন।

৪। এ ধরনের বীজতলায় সাধারণত পানি সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রয়োজন হলে ছিটিয়ে পানি দেয়া যেতে পারে।

 

ব্যবহারিক: ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি

 

৫। পোকামাকড় বা রোগের আক্রমণ দেখা দিলে তা দমনের ব্যবস্থা নিন।

৬। চারা রোপণ করার উপযোগী ফেলুন।

৭। এবার ভাসমান বীজমা তৈরির কাজটি আপনার স্কুলের পাশে কোন জলাশয়ে অনুশীলন করুন এবং এর অনু থেকে শেষ পর্যন্ত পার খাতায় লিপিবদ্ধ করুন।

ধান সম্পর্কিত কিছু তথ্য

ধান (বৈজ্ঞানিক নাম: Oryza sativa ওরিজা সাতিভা) পোয়াসি গোত্রের দানাশস্য জাতীয় উদ্ভিদ। ধান উষ্ণ জলবায়ুতে, বিশেষত পূর্ব-এশিয়ায় ব্যাপকভাবে চাষ হয়। ধান বা ধান্য শব্দের উৎপত্তি অজ্ঞাত। ধানবীজ বা চাল সুপ্রাচীনকাল থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রধান খাদ্য। চীন ও জাপানের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় ১০,০০০ বছর আগে ধান চাষ শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। ব্যাপক অভিযোজন ক্ষমতার দরুন ধান উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৬০০ মিটার উচ্চতায়ও (জুমলা, নেপাল) জন্মায়।

 

ব্যবহারিক: ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি

ধান গাছের গঠন

ধান গাছ সাধারণত ১-১.৮ মিটার (৩.৩-৫.৯ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা সরু, লম্বা আকৃতির হয়। পাতা ৫০-১০০ সে.মি. (২০-৩৯ ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা ও ২-২.৫ সে.মি. (০.৭৯-০.৯৮ ইঞ্চি) প্রশস্ত হয়ে থাকে। সাধারণত বায়ুর সাহায্যে এর পরাগায়ন হয়ে থাকে। পুষ্পমঞ্জরীতে ফুলগুলো শাখান্বিত অবস্থায় উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সাজানো থাকে।

এক একটি পুষ্পমঞ্জরী ৩০-৫০ সেমি (১০-২০ ইঞ্চি) লম্বা হয়ে থাকে। যে বীজকে খাবার হিসেবে খাওয়া হয়, একে শষ্য বলা হয়। বীজ সাধারণত ৫-১২ মি.মি. লম্বা ও ২-৩ মি.মি. পুরু হয়ে থাকে।

Leave a Comment