ব্যবহারিক:ধানের ভিজা বীজতলা তৈরি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-ব্যবহারিক:ধানের ভিজা বীজতলা তৈরি

ব্যবহারিক:ধানের ভিজা বীজতলা তৈরি

বিষয়- ২: ধানের ভিজা বীজতলা তৈরি

প্রয়োজনীয় উপকরণ

বীজ, জমি, লাঙ্গল, মই, কোদাল।

 

ব্যবহারিক:ধানের ভিজা বীজতলা তৈরি

 

কাজের ধারা

১। সারাদিন রোদ পায় ও বর্ষার পানিতে ডুবে যায় না এমন এঁটেল মাটি সম্পন্ন উঁচু জমি নির্বাচন করুন।

২। প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি দিয়ে নির্বাচিত জমি ৩-৪ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি থকথকে কাদাময় করে ৬-৭ দিন ফেলে রাখুন। এতে সব আগাছা পচে গিয়ে সারে পরিণত হবে।

৩। জমির উর্বরতা কম হলে প্রতি বর্গমিটারে ২ কেজি হারে পচা গোবর বা আবর্জনা পচা সার জমি তৈরির সময় মাটির সাথে মিশিয়ে দিন।

৪। সেচ, নিকাশ ও পরিচর্যার সুবিধের জন্য ১২৫ সে.মি. চওড়া যে কোন দৈর্ঘ্যের বেড বা জমি খণ্ড চিহ্নিত করুন।

৫। দুটো বেডের মাঝে ৫০ সে.মি এবং বেড ও আইলের মাঝে ২৫ সে.মি জায়গা ফাঁকা রাখুন।

 

ব্যবহারিক:ধানের ভিজা বীজতলা তৈরি

 

৬। এবার ফাঁকা জায়গাগুলো থেকে গভীরভাবে ১০ ১৫ সে.মি মাটি তুলে নিয়ে বেডের উপর দিন। এতে সেচ বা নিকাশের জন্য নালা তৈরি হবে।

৭। এখন বেডের উপরের মাটি বাঁশ বা কাঠের লাঠি দিয়ে সমান করে নিন। বেডের মাটি (কাঁদা) অত্যধিক নরম হলে কিছু সময় অপেক্ষা করে কাদা একটু শুকিয়ে নিন। কারণ কাঁদা বেশি নরম হলে বীজ অনেক নিচে চলে যায়। এতে চারা তুলতে মারাত্মক অসুবিধা হয়।

৮। বীজ ভিজিয়ে বাড়িতে চারা গজিয়ে নিতে হয়। এরপর এই গজানো বীজ প্রতি বর্গমিটারে ৮০ ৯০ গ্রাম হারে বেডের উপর ছিটিয়ে দিন এবং নালাগুলো পানি দ্বারা ভর্তি করে রাখুন।

৯। বীজতলার আগাছা, পোকামাকড় বা রোগের প্রকোপ দেখা দিলে তা দমনের ব্যবস্থা নিন।

 

ব্যবহারিক:ধানের ভিজা বীজতলা তৈরি

 

১০। ধানের চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি বর্গমিটারে ৭-১০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দিন।

১১। চারা উত্তোলন করার পূর্বে বীজতলার মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এতে মাটি নরম হবে এবং সহজে চারা তোলা যাবে।

১২। এবার ধানের ভিজা বীজতলা তৈরির কাজটি ব্যবহারিক ক্লাসে কোন জমিতে অনুশীলন করুন এবং বীজতলার জমি নির্বাচন থেকে শুরু করে চারা উঠানো পর্যন্ত কাজের ধারা আপনার ব্যবহারিক খাতায় লিপিবদ্ধ করুন।

Leave a Comment