ব্যবহারিক : মাটির কলসে ধান বীজ সংরক্ষণ

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ, যেখানে প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন ধানবীজের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে অল্প পরিমাণ—প্রায় আট হাজার মেট্রিক টন—হাইব্রিড ধানবীজ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়; বাকি অধিকাংশ বীজ দেশীয় কৃষকের সংরক্ষিত বীজ থেকেই আসে। তাই কৃষক পর্যায়ে সঠিকভাবে বীজ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংরক্ষণের সময় সামান্য অবহেলাও বীজের জীবনীশক্তি (vigor) ও অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরবর্তী মৌসুমের ফলনে।

বীজকে তার পূর্ণ অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা বজায় রেখে পরবর্তী মৌসুম পর্যন্ত নিরাপদে রাখার যে কৌশল অনুসরণ করা হয় তাকে বীজ সংরক্ষণ কৌশল বলা হয়। সংরক্ষিত বীজের প্রধান শত্রু হলো আর্দ্রতা, তাপমাত্রা এবং বিভিন্ন পোকামাকড় ও ছত্রাক। আর্দ্রতা বেশি থাকলে বীজে ছত্রাক জন্মায়, আবার অতিরিক্ত তাপমাত্রা বীজের প্রাণশক্তি দ্রুত কমিয়ে দেয়। এ কারণে বীজ সংরক্ষণের জন্য বায়ুরোধী, শুষ্ক এবং নিরাপদ পাত্র ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

গ্রামীণ পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি কার্যকর পদ্ধতি হলো মাটির কলস বা মটকায় বীজ সংরক্ষণ। মাটির কলসের ভেতরে বীজ বায়ুরোধীভাবে সংরক্ষণ করলে পোকামাকড়, ইঁদুর ও রোগজীবাণুর আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায় এবং বীজ দীর্ঘদিন ভালো থাকে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি একটি স্বল্পব্যয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং অত্যন্ত কার্যকর প্রযুক্তি।

ব্যবহারিক : মাটির কলসে ধান বীজ সংরক্ষণ

 

ব্যবহারিক : মাটির কলসে ধান বীজ সংরক্ষণ

 

 

 

Leave a Comment