মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে লাভবান উল্লাপাড়ার কৃষকরা

পুষ্টিগুণে ভরপুর টমেটো বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি সবজি। এটি কাঁচা অবস্থায় যেমন সুস্বাদু, তেমনি রান্না, সালাদ, কেচাপ, কিংবা জুস হিসেবেও সমান জনপ্রিয়। টমেটোতে থাকে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, ফোলেট এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লাইকোপিন—যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়, এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে দেশে টমেটোর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই জনপ্রিয় ফসলটিতেই সাফল্যের গল্প লিখেছেন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার আলিয়ারপুর গ্রামের কৃষক নেজাব আলী। তিনি আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে এলাকার অন্যান্য কৃষকদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মালচিং পদ্ধতি হলো এমন এক আধুনিক কৃষি কৌশল যেখানে পলিথিন বা জৈব পদার্থের পাতলা স্তর মাটির উপরে বিছিয়ে চাষ করা হয়। এর ফলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়, আগাছা কম জন্মে, রোগজীবাণুর আক্রমণ হ্রাস পায়, এবং ফলনও হয় উন্নত মানের।

নেজাব আলী জানান, তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ২৫ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার বাগানের গাছগুলোতে প্রচুর টমেটো ধরে। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৮ মণ টমেটো বিক্রি করেছেন। বাজারে দাম তুলনামূলক কম থাকলেও তিনি আশা করছেন মৌসুম শেষে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হবে।

তিনি বলেন,

“আগে সাধারণ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করতাম, কিন্তু ফলন তেমন ভালো হতো না। এবার মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় ফসল অনেক ভালো হয়েছে। মাটি আর্দ্র থাকছে, গাছেও রোগ কম হচ্ছে। খরচ কিছুটা বেশি হলেও লাভও যথেষ্ট।”

এমএমএস (মাই মডার্ন সার্ভিসেস)-এর কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারে জমির আর্দ্রতা ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। এতে আগাছা কম জন্মে এবং গাছের বৃদ্ধি হয় আরও শক্তিশালীভাবে। তার ভাষায়—

“এই পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করলে ফলনের গুণগত মান বাড়ে, সারের কার্যকারিতা ঠিক থাকে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে।”

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, এবছর উল্লাপাড়া উপজেলায় মোট ৫১ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। তার মতে, এই নতুন প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন,

“মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকরা সহজেই বেশি লাভবান হন। ইতিমধ্যেই নেজাব আলীসহ অনেক কৃষক সফলতা পেয়েছেন। আমরা আশা করছি আগামী মৌসুমে এই পদ্ধতিতে চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে।”

এমএমএস-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আরও জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে এই ধরনের উদ্ভাবনী চাষাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে শুধু কৃষকদের আয় বাড়বে না, বরং দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আসবে নতুন মাত্রা।