মৃত্তিকা অণুজীব নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি বাউবি’র মৃত্তিকা বিজ্ঞান – ১২০৪ কোর্সের ইউনিট ৪ এর, ৪.৪ নম্বর পাঠ এর অংশ।
Table of Contents
মৃত্তিকা অণুজীব


ব্যাকটেরিয়া:
১। ব্যাকটেরিয়া এক প্রকার এককোষী ক্ষুদ্র অণুজীব।
২। কখনও খালি চোখে দেখা যায় না।
৩।অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
8। এরা সর্বত্রই বিদ্যমান যথা- মাটি, পানি, বায়ু এবং জীবদেহের ভিতর ও বাহির।
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
১। এককোষী জীবাণু ।
২। দেহে এক বা একাধিক ফ্লাজেলা থাকতে পারে।
৩। দেহ লম্বারূপ ধারণ করে দ্বিখন্ডীকরণ বা বাইনারীফিসন পদ্ধতিতে বংশ বৃদ্ধি করে।
8। আকারে ২-৫ মাইক্রন এবং ব্যতিক্রমধর্মী ০২-৮০ মাইক্রন হয়ে থাকে।
৫ ৷ এরা পরজীবি, মৃতজীবি, বায়ুজীবি কিংবা অবায়ুজীবি হতে পারে।

ব্যাকটেরিয়ার গঠন:
১। নিউক্লিয়াস সরল এবং সাইটোপ্লোজমের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে থাকে।
২।গোল ও দন্ড হতে শুরু করে বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। যথা ঃ গোলাকার, দন্ডাকার, পেচানো আকৃতির, কমা আকৃতির, প্রিজম আকৃতির ইত্যাদি তবে দন্ডাকৃতির সংখাই বেশি।
৩। ব্যাকটেরিয়ার দেহে যে সকল অংশ থাকে
ক) কোষ প্রাচীর
খ)মেজোসম
গ)লিপিড দানা
ঘ)নিউক্লিয়ার দ্রব্যগ
ঙ) পাজমা ঝিল্লি
চ) রাইবোসম
মৃত্তিকায় ব্যাকটেরিয়ার অবস্থান:
১। মাটিতে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে।
২। প্রতি গ্রামে ১-১০ বিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া এবং প্রতি একরে ১৮০-১৮০০ কেজি বায়োমাস থাকে।
৩। ব্যাকটেরিয়া মাটিতে বিভিন্ন কণার চারদিকে যেখানে বিশেষ করে তাদের খাবার এবং অন্যান্য অনুকূল অবস্থা পায় সেখানে বংশ বৃদ্ধি করে কলোনী সৃষ্টি করে।
৪। মাটিতে খনিজ ও মিশ্রিত জৈব কোলয়েড ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির পক্ষে উপযুক্ত মাধ্যম।
৫ । মাটিতে পরজীবি শ্রেণিভূক্ত ব্যাকটেরিয়াই বেশি থাকে এবং এরা জৈব পদার্থ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তি সংগ্রহ করে।
বিভিন্ন কারণে মাটিতে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণে তারতম্য ঘটে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ বা উপাদান সমূহ হচ্ছে :
(১) জৈব পদার্থ
(২) আর্দ্রতা
(৩) গ্রহণযোগ্য খাদ্যের পরিমাণ
(৪) বায়ু চলাচলের অবস্থা
(৫) তাপমাত্রা
(৬) অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব
(৭) মৃত্তিকার স্তরের অবস্থান
(৮) ঋতু পরিবর্তন, প্রভৃতি
মৃত্তিকায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির উপাদান:
পানি:
(ক) গাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য যতটুকু পানি মাটিতে থাকা প্রয়োজন ঠিক সে পরিমাণ পানি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য সর্বাধিক অনুকূল।
(খ) মাটিতে পানির মাত্রা অক্সিজেন সরবরাহকে প্রভাবিত করে।
(গ) ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি মাটিতে অক্সিজেন সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল ।

তাপমাত্রা:
(ক) ২০°-৩৭.৫° সে. তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
(খ) অত্যধিক তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া মরে যায়।
জৈব পদার্থ:
(ক) জৈব পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার শক্তির উৎস হিসাবে কাজ করে।
(খ) জৈব পদার্থ বেশি থাকলে ব্যাকটেরিয়াও বেশি থাকে।
বিনিময়যোগ্য ক্যালসিয়াম ও অম্লতা:
(ক) অধিক বিনিময়যোগ্য ক্যালসিয়াম ও ৬-৮ অম্লতা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক।
(খ) কোন শ্রেণির ব্যাকটেরিয়া কত থাকবে তা নির্ভর করে মাটির অম্লতা ও বিনিময়যোগ্য ক্যালসিয়ামের ওপর
(গ) কোন কোন ব্যাকটেরিয়া অধিক অম্ল (পিএইচ ৩.০ এর কম) ও অধিক ক্ষার (পিএইচ ৯.০ এর বেশি) অবস্থাতেও সক্রিয় থাকে।
ব্যাকটেরিয়ার কার্যাবলী:
১। ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ বিয়োজন বা বিশ্লেষণে সর্বাধিক সহায়ক।
২। ব্যাকটেরিয়া বায়ুমন্ডলীয় নাইট্রোজেন সংযোজনে অন্যতম ভূমিকা রাখে। নাইট্রোজেন সংযোজন করে ভূমির উর্বরতা বাড়ায়।
৩। ব্যাকটেরিয়া তিনটি বিশেষ ধরণের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া মাটিতে সংঘটিত করে।
ক) নাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় এমোনিয়াম (NH) কে জারিত করে নাইট্রেট (NO3) উৎপন্ন করে ।
খ) সালফারকে জারিত করে সালফেটে (SO2) রূপান্তরিত করে।
গ) নাইট্রোজেন ফিক্সেশন বা বায়ুস্থিত নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেনকে শিমজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ের নডিউলে (Nodule) জমা করে। যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং মৃত্তিকায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ায়।
ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিভাগ:
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার ৭-৮ প্রকার শ্রেণিবিভাগ করা সম্ভব। এগুলো হচ্ছে
১। ট্যাক্সোনোমিক শ্রেণিবিভাগ
২। তাপমাত্রাভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ
৩। দেহে ফ্লাজেলার অবস্থান ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ
৪। আকার আকৃতি ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ, যথা ঃ
(ক) দন্ডাকার
(খ)গোলাকার
(গ) পেচানো (ঘ) কমাকৃতি ও
(ঙ) প্রিজম
৫। পুষ্টিভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ, যথা ঃ
(ক) স্বভোজী ও (খ) পরভোজী।
৬। অক্সিজেনের উপস্থিতিভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ, যথা :
(ক) বায়ুজীবি ও (খ) অবায়ুজীবি।

একটিনোমাইসিটিসের পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য:
১। ব্যাকটেরিয়ার মত এককোষী উদ্ভিদ ।
২। ব্যাকটেরিয়ার মতই এদের ব্যাস।
৩। এদের যখন শাখাযুক্ত মাইসেলিয়া থাকে তখন ছত্রাকের মত দেখায় এবং যখন মাইসেলিয়া ভেঙ্গে যায় তখন ব্যাকটেরিয়ার মত দেখায় কিন্তু উপরটা মোমের মত মসৃণ তাই সহজে ভিজে না।
8। এদের দেহকোষ সুতোরমত এবং অসংখ্য শাখা প্রশাখাবিশিষ্ট।
৫ ৷ রেণুস্থলী ছত্রাকের মতই উৎপন্ন হয়।
৬। এরা ভিজা ও নিরপেক্ষ (পিএইচ ৬.০-৭.৫) মৃত্তিকায়ও বেশ বাড়তে পারে।
৭। একটিনোমাইসিটিস থেকে এন্টিবায়োটিক উৎপন্ন হয় এবং সবচেয়ে পরিচিত এন্টিবায়োটিকগুলো হচ্ছে-স্ট্রেপটোমাইসিন, টেরামাইসিন, নিয়োমাইসিন প্রভৃতি।
যে সকল অনুকূল অবস্থা একটিনোমাইসিটিসের কার্যাবলীর সহায়ক এগুলো হছে –
(১) অধিক আর্দ্র, সুনিষ্কাশিত ও সুষ্ঠু বায়ু চলাচল সম্পন্ন মৃত্তিকা
(২) যথেষ্ট জৈব পদার্থ
(৩) মাটির অম্লমান বা পিএইচ ৬.০-৭.৫
(৪) উষ্ণ আবহাওয়া
একটিনোমাইসিটিসের কার্যাবলী:
১। একটিনোমাইসিটিস জৈব পদার্থ উচ্চমাত্রায় বিয়োজন ঘটায় যেমন কম্পোস্ট, খামারজাত সার ইত্যাদি। এত অধিক তাপমাত্রায় অন্যান্য অণুজীবের কার্যাবলী ব্যহত হয়।
২। এরা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংখ্যা ও কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। হিউমাস উৎপাদনে সাহায্য ও সহায়তা দেয়।
8। যে সব যৌগ ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্বারা ভালভাবে পচতে বা বিয়োজিত হতে পারে না যেমন আমিষ, লিগনিন, কাইটিন, ফেনল প্রভৃতি বিয়োজনে এরা গুরুত্বপ র্ণ ভূমিকা রাখে।
৫। অতিরিক্ত অম্ল (পিএইচ ৫.০- এর কম) মৃত্তিকায় এদের কার্যাবলী থেমে থাকে। ৫।
৬। সদ্য কর্ষিত মৃত্তিকা থেকে যে বিশেষ গন্ধ বের হয় তার কারণ সাধারণত একটিনোমাইসিটিস।
৭। এরাই মাটিতে জৈব পদার্থে অবস্থিত খাদ্য গাছের গ্রহণযোগ্য অবস্থায় রূপান্তর করে।
শৈবাল বা শেওলার বৈশিষ্ট্য:
১। এরা অতি ক্ষুদ্র স তোর মত এককোষী উদ্ভিদ।
২। ভুত্বকের কাছাকাছি অর্থাৎ মৃত্তিকার উপরিভাগের ১৫ সে.মি. এর মধ্যে বসবাস করে।
৩। এদের দেহে ক্লোরোফিল আছে ফলে সালোক সংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজেই উৎপাদন করতে পারে। তবে কিছু কিছু প্রজাতির শৈবালে ক্লোরোফিল থাকে না।
8।নাইট্রেট ও এ জাতীয় যৌগিক পদার্থ এরা মাটি থেকে গ্রহণ করে এবং বায়ু বা মৃত্তিকাস্থিত বায়ুর কার্বন-ডাই-অক্সাইড হতে কার্বন গ্রহণ করে।
৫।সূর্যের আলো পেলে তা থেকেই শক্তি সংগ্রহ করে। আবার মাটির বেশ গভীরে থাকলে জৈব পদার্থ বিয়োজিত করে শক্তি পায়।
৬ । ভিজা মাটি ও আর্দ্র আবহাওয়া এদের বসবাসের জন্য উত্তম। তবে রেণু (স্পোর) আকারে পানি ব্যতিরেকে অনেকদিন থাকতে পারে।
৭। মৃত্তিকায় শৈবালের ৬০ প্রকার প্রজাতি বিদ্যমান।
৮। ০-১৫ সেমি উপরিস্থরের প্রতি বর্গমিটার মৃত্তিকায় ১০-১০০ লক্ষ শৈবাল দেখা যায়।
৯। এরা নিরপেক্ষ মৃত্তিকা বিশেষ করে ৭-৮ পিএইচ মান সম্পন্ন জমিতে থাকতে পছন্দ করে যদিও সীমিত সংখ্যক অম্ল মাটিতেও দেখা যায়।
১০। বায়ু থেকে মুক্ত নাইট্রোজেন নিয়ে এরা নিজেদের শরীর গঠনের কাজে লাগায় যাকে নাইট্রোজেন বন্ধন বা নাইট্রোজেন ফিক্সেশন প্রক্রিয়া বলা হয়।
শ্রেণিবিভাগ ঃ
মৃত্তিকায় তিন প্রকার শৈবাল পাওয়া যায়, যথাঃ
(১) নীলাভ সবুজ,
(২) সবুজ বা ঘাস সবুজ ও
(৩) ডায়াটম
নীলাভ সবুজ শৈবালের (Blue Green Algae) গুরুত্ব:
১। এদেশের মাটিতে এরা প্রতি হেক্টরে ৩০ কেজি নাইট্রোজেন যোগ করে।
২। এরা মাটিতে ৪০-২৪ টন/হেঃ জৈব পদার্থ যোগ করে।
৩। রাসায়নিক সারের সাথে মিশিয়ে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।
8। পেস্টিসাইড প্রয়োগ কিংবা অন্যান্য রাসায়নিক সার প্রয়োগে এদের উপর তেমন প্রভাব ফেলে না।
৫ । যে কোন মৃত্তিকায় প্রয়োগ সম্ভব। ইহা মৃত্তিকার ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণের উন্নতি ঘটায়।
৬। অজৈব দ্রব্যকে জৈব দ্রব্যে পরিণত করতে সহায়তা দান করে।
৭। উৎপাদন খরচ কম। এদের ব্যবহারে ফলন কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
৮। মৃত্তিকার সংযুক্তি ও বুনটের উন্নতি ঘটায় ।
৯। ভূমিক্ষয়রোধ করে।
১০। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বিযুক্তির ফলে মাটির ক্ষারকত্ব কমায়।
১১। শুকনো অবস্থায় বহু বৎসর টিকিয়ে রাখা ও গুণাগুণ রক্ষা করা সম্ভব।
১২। ব্যবহারে ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
১৩। এ নীলাভ সবুজ শৈবাল জলাভূমিতে ধানগাছের খুব সহায়ক। এরা কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ও অক্সিজেন ত্যাগ করে যা কার্বোহাইড্রেট উৎপাদনের কাজে লাগে। এদের দেহ থেকে বেরিয়ে আসা অক্সিজেন ধান গাছ গ্রহণ করে। মৃত্যুর পর জমিতে পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন ও জৈব পদার্থ সরবরাহ করে।
১৪। মৃত্তিকার জীবনকাল সারাক্ষণ সজিব রাখে।
নীলাভ সবুজ শৈবালের জেনাস ও স্পেসিস:
নীলাভ সবুজ শৈবালের অধীনে ১৫০টি জেনাস ও ১৫০০ স্পসিস বা প্রজাতি রয়েছে। এদেশের মৃত্তিকায় নিলিখিত নীলাভ সবুজ শৈবাল দেখা যায় ঃ
(১) এনাবেনা (২) নস্টক (৩) সাইটোনেমা (8) পে- কটোনেমা (৫) ক্যালোথ্রিক্স (৬) এ্যলুমিয়া (৭) টলিপোক্সি ও (৮) ফোরমিডিয়াম
ছত্রাক:
মৃত্তিকায় অবস্থানরত অণুজীবের মধ্যে ছত্রাকের পরিমাণ অনেক বেশি। এক গ্রাম মাটিতে ৮ হাজার থেকে ১০ লক্ষ পর্যন্ত্র ছত্রাক থাকতে পারে। একর প্রতি ০-১৫ সে.মি. মৃত্তিকায় ৫০০-৭৫০ কেজি ছত্রাক থাকে। ফসল ও চাষাবাদের জমিতে এদের সংখ্যা বেশি থাকে। মাটিতে ১৭০ বর্গের অন্ত গত ৬৯০টি ছত্রাক প্রজাতি রয়েছে। ছত্রাক মূল, কান্ড, পাতাবিহীন নিম্ন শ্রেণির উদ্ভিদ। অঙ্গজ অবস্থায় এরা দেখতে সূতোর মত। সূতোর মত ছত্রাক আকারে একটু বড় হতে পারে এবং দেহে শাখা প্রশাখাও বের হতে পারে আবার নাও পারে। এরা বহুকোষী। এদের চলন শক্তি নেই। যৌন ও অযৌন পদ্ধতিতে প্রজনন ঘটায় বিশেষ করে রেণু বা স্পোরের মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়।
মাটিতে তিন প্রকার ছত্রাক রয়েছে, যথা : ইস্ট, ছাতা (মোল্ড) এবং ব্যাঙের ছাতা। এরা অম্ল, নিরপেক্ষ ও ক্ষার মাটিতে অর্থাৎ প্রায় সব মাটিতে বসবাস করতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অম্ল মাটিতেই এরা অধিক হারে থাকে। চুন প্রয়োগে সংখ্যা হ্রাস পায়।
ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য:
১। এদের দেহে ক্লোরোফিল নেই।
২।এরা কার্বনের জন্য জৈব পদার্থের ওপর নির্ভর করে। ফলে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটিতে অধিক পরিমাণ থাকে ।
৩। এরা মৃতজীবী, মিথোজীবী বা পরজীবী।
8। অধিক অম্ল মাটিতে বেঁচে থাকতে এদের অসুবিধে হয় না।
৫ ৷ জলাশয় বা জলাবদ্ধ এলাকায় এরা টিকে থাকতে পারেনা।
৬। বায়ুজীবী বলে উপরের স্তরে অধিক ও নিম্ন স্তরে কম থাকে।
৭। দেহ সূক্ষ সূতোর মত দেখা যায়।
৮। শাখা প্রশাখা থাকতে পারে কিংবা নাও পারে।
৯। কোন কোন প্রজাতি বীজ রেণু ধারণ করে যা দেখতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়।
ছত্রাকের কার্যাবলী:
১। কতকগুলো ছত্রাক (যেমন মাইকোরাইজা) গাছের ম লে মিথোজীবী রূপে অবস্থান করে এবং গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান বিশেষ করে ফসফরাস গ্রহণে সাহায্য করে।
২। এরা কতকগুলো স্থায়ী জৈব পদার্থ যথা : সেলুলোজ, লিগনিন ও গাম, এবং সহজে বিয়োজিত জৈব পদার্থ যথা : চিনি, স্টার্চ ও প্রোটিন বিয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৩। এসিড ও পিট মৃত্তিকায় জৈব পদার্থের বিয়োজন ঘটায়।
8। জৈব পদার্থ থেকে হিউমাস উৎপাদনে সাহায্য করে।
৫ । মৃতদেহ থেকে মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ হয়।
৬। কোন কোন ছত্রাক (পরজীবী) ফসলের রোগ ছড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
৭। অনেক প্রজাতির ছত্রাক জৈব পদার্থকে ভেঙ্গে এমোনিয়ামে পরিবর্তন করে।
৮। ব্যাঙের ছাতা (মাশরুম) ছত্রাক না থাকলে অরণ্য মাটির জৈব পদার্থ মোটেই বিয়োজিত হতো না। মাশরুম বা ব্যাঙের ছাতা পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।
৯। ছত্রাক মৃত্তিকা কার্বন ও নাইট্রোজেনের অধিকাংশ নিজেদের শরীর গঠনের কাজে লাগায় ।
মাইকোরাইজা:
মাইকোরাইজার অর্থ ছত্রাকম ল। ছত্রাকের মাইসোলিয়াম ও কতকগুলো সজীব উদ্ভিদের শিকড়ের ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানকে মাইকোরাইজা বলে। এ সহাবস্থান মিথোজৈবিক বা সিমবায়োটিক। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বনাঞ্চালের কিছু গাছে এ ধরনের সম্পর্ক প্রথম দেখা যায়। আধুনিক গবেষণায় ফলে বিভিন্ন মৃত্তিকায় মাইকোরাইজার উপস্থিতি ও উপযোগিতা নির্দিষ্টরূপে জানা গেছে। ছত্রাকের সূতাকৃতি হাইফা ও উদ্ভিদ শিকড়ের কোষের মধ্যে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এদেরকে দু’টি শ্রেণিতে ভাগ কার যায় –
১। একটোট্রফিক বা বহিঃমাইকোরাইজা – শিকড়ের কোষের চারদিকে অর্থাৎ অম্ল কোষের ফাঁকে প্রবেশ করলে তাকে বহিঃমাইকোরাইজা বলে ।
২। এন্ডোট্রফিক বা অন্ত : মাইকোরাইজা – এরা উদ্ভিদের মূলের কোষের অভ্যন্তরে (এপিডার্মিস ও করটেক্স, প্রবেশ করে। ছত্রাক গাছের শিকড়ে প্রবেশ করার ফলে বিশেষ এনজাইম নিঃসৃত হয়।
মাইকোরাইজার কার্যাবলী:
১। মূলকে রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
২। অন্ত ঃ মাইকোরাইজা মরে গেলে সরাসরি উদ্ভিদের পুষ্টি যোগায়।
৩। বহিঃমাইকোরাইজা মাটিতে জৈব পদার্থ যোগায়।
8। মাইকোরাইজা উদ্ভিদ শিকড়ের পুষ্টি পরিশোষণ এলাকা বাড়ায় ফলে ফসফরাস শোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
৫ । শিমজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে গুটি (নডিউল) উৎপাদন এবং নাইট্রোজেন সংযোজনে সাহায্য করে।
সূত্র:
- মৃত্তিকা অণুজীব ,পাঠ ৪.৪, ইউনিট ৪ , ১২০৪, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, বিএজিএড, বাউবি
