মৃত্তিকা দ্রবণ – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়” এর “বাউবি বিএই ১২০৪ – মৃত্তিকা বিজ্ঞান” বিষয় এর ইউনিট ৩ এর পাঠ ৩.২।
Table of Contents
মৃত্তিকা দ্রবণ
চলুন প্রথমেই জেনে নেই – মৃত্তিকা দ্ৰবণ কী ? মৃত্তিকায় অবস্থিত পানিতে দ্রবণীয় লবণাদি বিদ্যমান থাকার নামই মৃত্তিকা’ দ্রবণ। বিশেষ করে কোলয়েড কদম ও হিউমাসের মিশ্রণকে মৃত্তিকা’ দ্রবণ বলে। এখানে গাছের পুষ্টি উপাদান আয়নিক আকারে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। অন্য কথায়, মৃত্তিকা রন্ধ্রে বা ফাঁকা স্থানে যে পানি থাকে তাতে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। মৃত্তিকা পানিতে দ্রবীভূত এ লবণকে মৃত্তিকা’ দ্রবণ বলে। মৃত্তিকা ‘দ্রবণ পরিবর্তনশীল। মৃত্তিকায় সার প্রয়োগ করলে তা দ্রবণে মিশে যায়।

মৃত্তিকা দ্রবণের বৈশিষ্ট্য:
১। পানির চেয়ে মৃত্তিকা’ দ্রবণের ঘনত্ব অধিক এবং মৃত্তিকায় পানি কমে গেলে দ্রবীভূত লবণের ঘনত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
২। আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল এলাকার মাটিতে মৃত্তিকা’ দ্রবণের ঘনত্ব কম কিন্তু খরা সমৃদ্ধ গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে মৃত্তিকা ‘দ্রবণের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
৩। ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে ১৫ সে.মি. জায়গায় প্রতি হেক্টরে ১০০-৫০০ কেজি দ্রবীভূত লবণ বিদ্যমান।
8।কোন মৃত্তিকায় দ্রবণীয় লবণের ঘনত্ব শতকরা ০.৫ ভাগের অধিক হলে উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর।
৫। অম্ল ও ক্ষার ধর্ম মৃত্তিকা’ দ্রবণের আর এক বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ মৃত্তিকা ‘দ্রবণ অত্ন বা ক্ষারধর্মী হয়।
৬। এঁটেল মাটিতে মৃত্তিকা’ দ্রবণের ঘনত্ব বেশি এবং বেলে মাটিতে কম থাকে।

মৃত্তিকা দ্রবণে দ্রবীভূত লবণের উৎস:
মৃত্তিকা’ দ্রবণে দ্রবীভূত লবণের প্রধান উৎসসমূহ হচ্ছে :
(১) উৎস বাস্প বা পেরেন্ট ম্যাটেরিয়াল
(২) জৈব ও অজৈব সার
(৩) উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্টাংশ
(8) সেচের পানি
(৫) বৃষ্টির পানি
(৬) ভূগর্ভস্থ পানি
(৭) জোয়ারের পানি (সামুদ্রিক )

মৃত্তিকা দ্রবণের উপাদানে পার্থক্যের কারণ:
অসংখ্য কারণে মৃত্তিকা’ দ্রবণের উপাদানে পার্থক্য ঘটে, তন্মধ্যে মূল কারণগুলো হচ্ছে :
(১) আবহাওয়া ও জলবায়ু
(২) স্থান বা জায়গা
(৩) জনসংখ্যার চাপ
(৪) মানুষের নিত্য ক্রিয়াকর্ম
(৫) মৃত্তিকার ভৌত ধর্ম
(৬) মৃত্তিকা উৎস বস্তুর প্রকৃতি, প্রভৃতি
মৃত্তিকা দ্রবণের উপাদানে আয়নিক অবস্থা:
মৃত্তিকায় বিভিন্ন দ্রবণের পরিমাণ থাকে শতকরা প্রায় ১ ভাগ। মৃত্তিকা’ দ্রবণে বিদ্যমান আয়ন সমূহ হচ্ছে :
১। মৃত্তিকা’ দ্রবণে Na, Cat, K, Mg 2+ প্রভৃতি ক্যাটায়নের প্রাধান্য লক্ষণীয়।
২। মৃত্তিকা ‘দ্রবণে NO3, NH, POTH POT, SO, Zn 2, Fet প্রভৃতি অ্যানায়ন ও ক্যাটায়নগুলোও বিদ্যমান।
মৃত্তিকা দ্রবণের প্রধান অংশসমূহ:
১। পানি
২। কদম কোলয়েড – কেওলিনাইট, ইলাইট
৩। হিউমাস বা জৈব কোলয়েড, হিউমিক এসিড, ফালভিক এসিড
8। ধনাত্বক আয়ন – Ca2+, Mg 2+, K, Na, Zn2+, Fest, NH”, Mn”, H’, ইত্যাদি।
৫। ঋনাত্বক আয়ন SO 2, NO CI, H, POT, PO, HPO4 ইত্যাদি।
৬। দ্রবীভূত অক্সিজেন
৭। জৈব এসিড, ইত্যাদি।
মৃত্তিকা দ্রবণের গুরুত্ব:
১। মৃত্তিকা ‘দ্রবণের উপাদান জানার ফলে সঠিক শস্যের আবাদ সম্ভব।
২। দ্রবণে গাছপালা ও শস্যের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান আয়নিক আকারে দ্রবীভূত থাকে।
৩। মৃত্তিকা’ দ্রবণ উদ্ভিদ ও জীবাণুর খাদ্য ভান্ডারস্বরূপ কিন্তু দ্রবীভূত লবণের ঘনত্ব শতকরা ০.৫ ভাগের বেশি হলে তা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর 1
৪। মৃত্তিকা ‘দ্রবণ শিলাক্ষয় ও সংযুক্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫। দ্রবণের মাধ্যমে উদ্ভিদ খাদ্যোপাদান চলাচল করে, ফলে উদ্ভিদ সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করে যা উচ্চ ফলনের জন্য প্রয়োজন ।
৬। অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা প্রভৃতি কারণে দ্রবণের ঘনত্বে তারতম্য ঘটলে গাছপালার প্রয়োজনমত পুষ্টি সংগ্রহে ব্যাঘাত ঘটে ফলে ফলন কমে আসে।
৭। মৃত্তিকা দ্রবণ মৃত্তিকার ভারসাম্য রক্ষায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
৮। ভূগর্ভস্থ পানি দ্রবণে হেভী মেটাল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৯। আয়ন বিনিময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। যা উদ্ভিদ কর্তৃক পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
