হাঁসের খাদ্য

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হাঁসের খাদ্য – যা কৃষি উপকরণ : গৃহপালিত পশু-পাখির আবাসন ও খাদ্য এর অন্তর্ভুক্ত ।

হাঁসের খাদ্য

হাঁসের খাদ্যাভ্যাস

হাঁস সর্বভূক পাখি। এরা এমনকী তৃণলতা এবং খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ খেয়েও ভালো উৎপাদন দিতে সক্ষম। এরা দলবদ্ধ ও জলচর পাখি। তাই খাল-বিল, পুকুর, হাওর-বাওর, নদী ইত্যাদিতে দলে বিচরণ করে ছোট ছোট জলজ উদ্ভিদ ও অমেরুদন্ডী প্রাণী, যেমন:- শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি খেয়ে অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু খামারভিত্তিতে অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনের জন্য হাঁস পুষতে হলে এসব খাদ্যের সঙ্গে সম্পূরক খাদ্যও সরবরাহ করতে হবে।

হাঁস শুদ্ধ খাদ্য খেতে পারে না। তাই হাঁসের খাবারের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পানি সরবরাহ করতে হয়। এদেরকে সবসময় ভেজা ও গুঁড়া খাদ্য দেয়া উচিত। ডিম থেকে ফোটার পর প্রথম ৮ সপ্তাহ হাঁসকে ইচ্ছেমতো খেতে দেয়া উচিত। পরবর্তীতে দিনে দু’বার রসদ সরবরাহ করলেই চলে। হাঁসের বাচ্চাকে জন্মের পর প্রথম দু’একদিন হাতে তুলে খাওয়াতে হয় যাতে করে বাচ্চারা খাবার খাওয়া শিখতে পারে।

হাঁসের রসদ

বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ মিশ্রিত করে মুরগির মতো হাসেরও রসদ তৈরি করা যায়। মুরগির মতো হাঁসের রসদের বিভিন্ন ধরনে পুষ্টি উপাদান, যেমন:- আমিষ, শর্করা, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ও খনিজপদার্থ সঠিক মাত্রার সরবরাহ করতে হবে।

বয়সভেদে হাঁসকে ৩-৪ ধরনের রসন প্রদান করা হয়, যেমন:- বাচ্চার প্রারম্ভিক রসদ (০-২ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত), বৃদ্ধির রসদ (৩-৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত), লেয়ার ব্রিডারের জন্য বৃদ্ধির রসদ (১-২০ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত) ও লেয়ার/ব্রিডার বা সমাপ্তির রসদ (২১ সপ্তাহ বয়স থেকে বাকি সময় পর্যন্ত)। হাঁসের রেশনে কী পরিমাণ শক্তি ও পুষ্টি উপাদান থাকা উচিত তা সারণি ০৮-এ দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া সারণি ০৯ ও ১০-এ ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য দিয়ে তৈরি দু’টি রসদ দেখানো হয়েছে। এগুলো অনুসরণ করে হাঁসের খাদ্য তৈরি করা যায়। মাংস উৎপাদনকারী হাঁসের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক রসদ দেয়ার পর বৃদ্ধি রসদ শুরু করতে হয় এবং বাজারজাতকরণের পূর্ব পর্যন্ত এই রসদ সরবরাহ করতে হয়। মাংসের জন্য ব্যবহৃত হাঁসের বাণিজ্যিক জাত /উপজাতগুলো ৮-১০ সপ্তাহের ভেতর বাজারজাত করা হয়ে থাকে।

তবে, এদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাংসের জন্য কিছুটা বয়স্ক হাঁস ব্যাবহার করা হয়। অন্যদিকে, ডিমপাড়া বা লেয়ার ও প্রজননের হাঁসগুলোকে ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত বৃদ্ধির রসদ দিয়ে অতঃপর লেয়ার/ব্রিডার রসদ রসবরাহ করা যায় ।

সারণি ০৮: বিভিন্ন বয়সের হাঁসের রসদে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের মাত্রা

 

হাঁসের খাদ্য

সারণি ০৯: বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন বয়সের হাঁসের রসদ

 

হাঁসের খাদ্য

 

সারণি ১০: বয়সভেদে হাঁসের জন্য বিভিন্ন ধরনের রসদ

 

হাঁসের খাদ্য

 

হাঁসের খাদ্য

 

বয়সভেদে খাদ্য গ্রহণ মুরগির মতো হাঁসও প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করে ও নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন লাভ করে। সারণি ১১-এ প্রতিদিন বয়সভেদে প্রতিটি হাঁস কতটুকু খাদ্য গ্রহণ করে তা দেয়া হয়েছে। তবে, হাঁসের জাত বা উপজাতের ওপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণের তারতম্য ঘটতে পারে।

সারণি ১১ঃ বয়সভেদে হাঁসের খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ

 

হাঁসের খাদ্য

 

সারসংক্ষেপ

হাস সর্বভূক পাখি। এরা দলবদ্ধভাবে খাল-বিল, পুকুর, হাওর-বাওর, নদী ইত্যাদিতে বিচরণ করে জলজ উদ্ভিদ ও অমেরুদ-ী প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। তবে হাস থেকে অধিক মাংস ও ডিম পেতে হলে এগুলোর সঙ্গে সম্পূরক খাদ্যও সরবরাহ করতে হবে। বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ মিশ্রিত করে মুরগির মতো হাঁসেরও রসদ তৈরি করা হয়।

বয়সভেদে হাঁসকে ৩-৪ ধরনের, যেমন:- বাচ্চার প্রারম্ভিক রসদ, বৃদ্ধির রসদ, লেয়ার বা ব্রিডারের জন্য বৃদ্ধির রসদ এবং সমাপ্তির রসদ প্রদান করা হয়। মুরগির মতো হাঁসকেও বয়সভেদে দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ রসদ সরবরাহ করতে হয় ।

 

Leave a Comment