আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-ব্যবহারিক: ধান, পাট, আলু, সরিষা ও মসুর ডালের যে কোন একটি ফসলের চাষাবাদ
ব্যবহারিক: ধান, পাট, আলু, সরিষা ও মসুর ডালের যে কোন একটি ফসলের চাষাবাদ
বিষয়- ৭: ধান, পাট, আলু, সরিষা ও মসুর ডালের যে কোন একটি ফসলের চাষাবাদ
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- জমি তৈরির যন্ত্রপাতি
- বীজ বা চারা
- আপদনাশক

কাজের ধারা
১। উপরিউক্ত ফসল ৫টি যে কোন একটির জন্য উপযোগী জমি নির্বাচন করুন।
২। জমিটি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে তৈরি করুন।
৩। প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার চাষের সময় মাটির সাথে মিশিয়ে দিন।
৪। সঠিক পদ্ধতিতে বীজ বা চারা জমিতে বপন বা রোপণ করুন।
৫। প্রয়োজনে কোন সার উপরি প্রয়োগ করুন।
৬। আগাছা, পোকামাকড় ও রোগ দেখা দিলে তা দমনের ব্যবস্থা নিন।
৭। সেচ বা নিকাশের প্রয়োজন হলে তা কার্যকর করুন।

৮। পরিপক্ক হলে সঠিক সময়ে তা কেটে নিন।
৯। এরপর মাড়াই ও ঝাড়াই করে ফসল দানা পরিষ্কার করে নিন।
১০। ভালোভাবে রৌদ্রে শুকিয়ে নিন।
১১। এরপর সঠিক জায়গায় সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করুন।
১২। উপরিউক্ত কাজগুলো যে কোন একটি ফসলের জন্য অনুশীলন করুন এবং তা আপনার ব্যবহারিক খাতায় লিপিবদ্ধ করুন।
উল্লেখ্য ধান, পাট, আলু, সরিষা ও মসুর ডালের চাষাবাদের প্রযুক্তি তত্ত্বীয় অংশে আলোচনা করা হয়েছে।
আউশ ধান
দ্রুত (আশু) ফসল উৎপন্ন হওয়ার বিচারে এই ধানের নাম করা হয়েছে আউশ। এই ধান সাধারণত জন্মে বর্ষাকালের আষাঢ় মাসে। এই কারণে এর অপর নাম আষাঢ়ী ধান। তবে এই ধান বৎসরের যে কোন সময়েই চাষ করা যায়। বাংলাদেশে আউশ ধানের যে নামগুলো পাওয়া যায়, তা হল- আটলাই, কটকতারা, কুমারী, চারনক, দুলার, ধলাষাইট, ধারাইল, পটুয়াখালী, পশুর, পানবিড়া, পাষপাই, পুখী, মরিচবেটি, হরিণমুদা, হাসিকলমি, সূর্যমুখ, শনি, ষাইটা, ভইরা, শঙ্ক পটি, কালা বকরি, খাড়াজামড়ি, মুলকে আউশ, কালামানিক, ভাতুরি ইত্যাদি। আউশ ধান উচ্চফলনশীল হয়।
আমন ধান
সংস্কৃত হৈমন’ বা হৈমন্তিক’ শব্দের অপভ্রংশ। ধান বিশেষ। এর অপর নাম আগুনী ও হৈমন্তিক। আমন মৌসুমে সবচেয়ে বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়। আমন ধান তিন প্রকার। যথা—
১. রোপা আমন : চারা প্রস্তুত করে, সেই চারা রোপণ করে ধান উৎপন্ন হয় বলে এর এরূপ নাম। রোপা আমন জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাসে বীজ তলায় বীজ বোনা হয়, শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে রোপণ করা হয় এবং অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে ধান কাটা হয়।
২. বোনা আমন : এই আমন ছিটিয়ে বোনা হয়। বোনা আমন চৈত্র-বৈশাখ মাসে মাঠে বীজ বপন করা হয় এবং অগ্রহায়ণ মাসে পাকা ধান কাটা হয়। একে আছড়া আমনও বলে।
৩. বাওয়া আমন : বিল অঞ্চলে এই আমন উৎপন্ন করা হয়। একে এই কারণে গভীর পানির বিলে আমনও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে। এবং প্রতিটি প্রজাতির ধানের স্থানীয় নাম রয়েছে।
যেমন— ইন্দ্রশাইল, কাতিবাগদার, ক্ষীরাইজালি, গদালাকি, গাবুরা, চিংড়িখুশি, চিটবাজ, জেশোবালাম, ঝিঙ্গাশাইল, ঢেপি, তিলককাচারী, দাউদিন, দাদখানি, দুদলাকি, দুধসর, ধলা আমন, নাগরা, নাজিরশাইল, পাটনাই, বাঁশফুল, বাইশ বিশ, বাদশাভোগ, ভাসা মানিক, মালিয়াডাক্র, রাজাশাইল, রূপশাইল, লাটশাইল, হাতিশাইল ইত্যাদি।

