মাছের সংজ্ঞা, মাছের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাছের গুরুত্ব

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-মাছের সংজ্ঞা, মাছের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাছের গুরুত্ব

মাছের সংজ্ঞা, মাছের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাছের গুরুত্ব

মাছ কি ?

মাছ শব্দটিকে এক কথায় ব্যাখ্যা করা প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের প্রতিটি প্রাণীকে সহজভাবে চেনা ও উপস্থাপনার জন্য কতকগুলো বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করা হয়েছে, যাদের সাহায্যে খুব সহজেই একটি প্রাণীকে অন্য একটি প্রাণী থেকে পৃথক করা যায়।

মাছের ও এ ধরনের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা খুব স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য অনুরূপ প্রাণী থেকে মাছকে পৃথকভাবে চিনিয়ে দেয়। মাছের এ সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-

ক) শীতল রক্ত (খ) জলজা (গ) মেরুদণ্ডী প্রাণী (ঘ) অভ্যন্তরীণ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালনা করে (ঙ) জোড় বিজোড় পাখনার সাহায্যে চলাচল করে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাছই উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ বহন করে । মাছের উপরোক্ত বৈশিষ্ট্য ছাড়া অন্যান্য আরো কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-

১। মাছের দেহের সামনের দিক এবং লেজের দিকটা সামান্য সরু। এ ধরনের দেহ গঠনের ফলে মাছ খুব সহজেই পানিতে সাঁতার কাটতে পারে।

২। অন্যান্য জীবের মতো মাছেরও স্ত্রী ও পুরুষ রয়েছে।

৩। মাছের রক্ত পরিবেশের তাপমাত্রার উঠা-নামার সাথে সাথে উঠা-নামা করে।

৪। মাছের রক্ত লাল কারণ এদের রক্তে হিমোগ্লোবিন রয়েছে।

৫। মাহ জলজ জীব, পানিতে বসবাস এবং জীবন ধারন করে। ফলে পানি থেকেই এদের অক্সিজেন গ্রহণ করতে হয়। এজন্য এদের মুখের ঠিক পেছন দিকে ফুলকা রয়েছে। এসব ফুলকার সাহায্যে মাছ পানি থেকে অক্সিজেন নিতে পারে।

 

মাছের সংজ্ঞা, মাছের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাছের গুরুত্ব

 

আবার অনেক মাছ রয়েছে, যেগুলো পানির বাইরেও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। এসব মাছের দেহে অতিরিক্ত শ্বাসঅঙ্গ রয়েছে। এসব অঙ্গের ভেতর এরা এ বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। খানিকটা বাতাস ধরে রাখতে পারে। ফলে ডাঙাতে অর্থাৎ পানির বাইরেও এরা খানিকটা সময় বেঁচে থাকতে পারে এ ধরনের মাছের মধ্যে পরিচিত মাছ হচ্ছে কই, মাগুর, শিং ইত্যাদি।

এসব মাছ জিয়ল মাছ হিসেবে পরিচিত। বাজারে নানা জাতের মাছ পাওয়া যায়। সব মাছ কিন্তু দেখতে একরকম নয়। বাজারে দেখা যায় এমন কয়েকটি তাজা মাছ লক্ষ্য করলে বিভিন্ন মাছের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়। তবে সাধারণভাবে মাছে যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা যায়, সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

 

মাছের সংজ্ঞা, মাছের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাছের গুরুত্ব

মুখ

মাছের মাথার একেবারে সামনের দিকে একটি মুখ (mouth) রয়েছে। এই মুখে উপরের ও নিচের অংশে ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল নামে দুটি অস্থিময় অংশ যুক্ত থাকে। মুখের অবস্থান দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই দুটি চোয়ালের গুরুত্ব অত্যধিক। কোন কোন মাছের এই দুটি চোয়ালে দাঁত থাকে আবার অনেক মাছের চোয়ালে কোন দাঁত থাকে না। চোয়ালে দাঁত রয়েছে এমন মাছের উদাহরণ হিসেবে বোয়াল, শোল, টাকি, গজার প্রভৃতি মাংসাশী মাছের কথা বলা যেতে পারে। এসব মাছ খাদ্য হিসেবে অন্যান্য ছোট জাতের মাছ বা পোকামাকড় খেয়ে থাকে। দাঁতহীন মাছের মধ্যে আমাদের অতি পরিচিত রুই, কাতল, মৃগেল প্রভৃতি উদ্ভিদভোজী বা প্ল্যাঙ্কটনভোজী মাছের কথা বলা যেতে পারে।

চোখ

মাছের মুখের কিছুটা উপরে মাথার দুপাশে একটি করে মোট দুটি চোখ (Eye) রয়েছে। চোখের সাহায্যে মাছ তার সামনের দিকে বেশ খানিকটা অংশে অবস্থিত খাদ্যবন্ত, শত্রু ইত্যাদি সহজেই সনাক্ত করতে পারে।

কানকো

মাছের মাথার পেছনের দিকে দুপাশে দুটি শক্ত হাড়ের তৈরি ত্রিকোণাকার ঢাকনা থাকে। এই ঢাকনাই কানকো (operculum) নামে পরিচিত। মাছ মুখ দিয়ে যে পানি দেহের ভেতর গ্রহণ করে, তা কানকো দিয়ে বাইরে বের করে দেয়। এভাবে মাছ তার শ্বসন অঙ্গ ফুলকাকে বিভিন্নভাবে রক্ষা করে।

ফুলকা

মাছের কানকোর ঠিক নিচে ফুলকার (gills) অবস্থান। এটি অনেকটা লাল রঙের চিরুনীর মতো দেখতে। ফুলকার সাহায্যে মাছ শ্বাস-প্রশ্বাস কার্য চালায়। অনেকের ধারণা মাছের শ্বাসকার্য পরিচালনার জন্য নাসারন্ধ্র ব্যবহার করে। কিন্তু কথাটা আসলে সত্যি নয়। নাসারন্ধ মাছের শ্বাসকার্যে তেমন কোন কাজেই লাগে না।

আঁইশ

সাধারণত মাছের দেহ আঁইশ (scale) নিয়ে ঢাকা থাকে। সামনের আঁইশ ক্রমান্বয়ে পেছনের আঁইশকে বেশ খানিকটা ঢেকে রাখে। এসব আঁইশ মাছের দেহকে বিভিন্ন ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা করে। আঁইশ ছাড়াও মাছের দেহে একজাতীয় পিচ্ছিল তরল পদার্থ থাকে এ পিচ্ছিল পদার্থটিকে শ্লেষ্মা (mucous) বলে। এ শ্লেম্মা মাছের দেহকে বিভিন্ন জাতের পরজীবি এবং অন্যান্য রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। অনেক মাছের দেহে কোন আঁইশ থাকে না। এ ধরনের মাছের মধ্যে শিং, মাগুর, বোয়াল, আইড়, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

পার্শ্বরেখা অঙ্গ

মাছের দেহের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অঙ্গ হচ্ছে পার্শ্বরেখা অঙ্গ (lateral line organ)। এটি মাছের দেহের দুপাশে কানকোর শেষ প্রান্ত থেকে শুরু করে পুচ্ছ পাখনা বা লেজের শুরু যেখানে সেখান পর্যন্ত বিস্তৃত। এ পার্শ্বরেখা অঙ্গের সাহায্যে মাছ সহজেই পানির বিভিন্ন গুণাগুণ, গভীরতা, বৈশিষ্ট্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝতে পারে। পার্শ্বরেখা মাছের দেহের ভারসাম্য রক্ষার কাজেও ব্যবহৃত হয়।

পাখনা

মাছের দেহে সাঁতারের জন্য বেশ কয়েক ধরনের পাখনা (fin) রয়েছে। এসব পাখনা মাছের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃত। এসব পাখনা অনেকটা হাঁসের পায়ের মতো। সাধারণভাবে মাছের দেহে দুটি জোড়া পাখনা এবং তিনটি বেজোড় পাখনা রয়েছে। পাখনাগুলো হচ্ছে, পৃষ্ঠা পাখনা, বক্ষ পাখনা, পায়ু পাখনা, পুচ্ছ পাখনা ও শ্রেণী পাখনা। এসব পাখনার সাহায্যে খুব সহজেই মাছ পানিতে সাঁতার কেটে চলাচল করতে পারে।

পায়ুপথ

মাছের পেটের ঠিক পেছন দিকে লেজের কাছাকাছি অংশে একটি ছোট ছিদ্র রয়েছে। এটিই মাছের পায়ুপথ (anus) হিসেবে চিহ্নিত। এ পায়ুপথ দিয়েই মাছ বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বের করে দেয়।

মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

মাছের যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে । সম্ভবত জলজ প্রাণীদের মধ্যে মাছের গুরুত্বই সর্বাধিক। মাছের বিভিন্ন প্রকার গুরুত্বের মধ্যে খাদ্য হিসেবেই এর গুরুত্ব সর্বাধিক। তবে মাছের অন্যান্য অনেক গুরুত্বও রয়েছে। নিচে এসব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

(ক) খাদ্য হিসেবে মাছের গুরুত্ব

মাছের দেহে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদানের মধ্যে আমিষ, স্নেহ, শর্করা, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি প্রধান। বিজ্ঞানীদের মতে, মাছ আমিষ জাতীয় খাদ্যের একটি প্রধান উৎস। দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমিষজাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন ও গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

মেধা ও মননের বিকাশেও আমিষ জাতীয় খাদ্যের গুরুত্ব রয়েছে। আমিষ জাতীয় খাদ্য ছাড়াও মাছে বিভিন্ন ধরনের তেল, খনিজ পদার্থ, নানা প্রকার ভিটামিনসহ নানা ধরনের পুষ্টিকর পদার্থ রয়েছে। মূলত এ কারণেই পুষ্টিহীনতা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মাছ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

তাছাড়া মাছ সহজপাচ্য বিধায় শিশু থেকে শুরু করে যে কোন ব্যাসের লোক বা রোগী খুব সহজেই মাছ হজম করতে পারে এবং এতে দেহের আমিষের চাহিদা মেটানোর সাথে সাথে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানের কারণে দেহে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। নিচে মাছের দেহ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান দেহের কি কি কাজে লাগে, তা উল্লেখ করা হলো-

পুষ্টিকর উপাদান

কি কাজে লাগে

দেহের জন্যপূরণ ও বৃদ্ধি সাধানের

তেল

হৃদরোগ প্রতিরোধক

ভিটামিন এ

ভিটামিন ডি

রাতকানা রোগ প্রতিরোধক

রিবেট ও হাড় দুর্বলতা প্রতিরোধক

মলা, ঢেলাসহ নানা জাতের মাছে পাওয়া যায়

বিভিন্ন প্রকার মাছের তেলে পাওয়া যায়

নানা প্রজাতির তেলসমৃদ্ধ মাছ

দাঁত ও দেহের অস্থি অনারোধক

ক্যালসিয়াম

আয়োডিন

মেলা, চেলাসহ নানা জাতের মাছে পাজা যায়

দৃষ্টিশক্তির দূর্বলতা প্রতিরোধক

কোন মাছে পাওয়া যায়?

জন্য বিভিন্ন ধরনের ছোট ও বড় মাছ।

পুঁটি মাছ ও বিভিন্ন জাতের ছোট মাছে পাওয়া যায়। গলগন্ড, মানসিক রোগ-প্রতিরোধক বিচ্ছিন্ন জাতের সামুদ্রিক মাছে পাওয়া যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মাছ শুধু যে দেহের পুষ্টি চাহিদাই পূরণ করে, তা নয়, বিভিন্ন ধরনের রোগ-প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও মাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

(খ) অর্থনৈতিক গুরুত্ব

মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মাছের ভূমিকা বেশ ব্যাপক। মাহের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে নিচে আলোচনা করা হলো।

(১) কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে মাছের গুরুত্ব

কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে মাছের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠী মাছ সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত। এদেশে মাছ সংগ্রহ, মাছ সংরক্ষণ, মাছ বিপণন, মাছের পোনা উৎপাদন ইত্যাদি খাতে প্রায় ১ কোটি লোক সম্পৃক্ত রয়েছে।

এদের মধ্যে ১২-১৫ লক্ষ সরাসরি মৎস্য সম্পদ থেকে জীবিকা অর্জন করছে। এছাড়াও বেকার সমস্যা দূরীকরণে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে মাছ চাষ করার মাধ্যমে মৎস্য সেক্টর বিশেষ অবদান রাখতে পারে।

২) বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস হিসেবে মাছের গুরুত্ব

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। বিভিন্ন ধরনের মাছ ও মাৎস্যজ প্রাণী রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। এক হিসেবে দেখা গেছে, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে মাছ ও মৎস্যজ প্রাণী রপ্তানি করে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে, তা বাৎসরিক রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭ শতাংশ।

শুধু তাই নয়, মাছ দেশের রপ্তানিযোগ্য পন্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানও অধিকার করেছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর যেসব মাছ ও মৎস্যরা পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়, তার মধ্যে জীবিত মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, ইত্যাদি প্রধান। এর মধ্যে চিংড়িজাতীয় পণ্যকে সাদা সোনা হিসেবেই অভিহিত করা হয়।

মৎস্য সম্পদ হ্রাসের কারণ :

বাংলাদেশ মাছ ও মৎস্য সম্পদে পরিপূর্ণ থাকলেও নানা কারণে এ সম্পদ ক্রমান্বয়েই হ্রাস পাচ্ছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা এ সম্পদ হ্রাসের জন্য প্রধানত দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন, যা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলে-

ক) প্রাকৃতিক কারণ এবং

খ) কৃত্রিম কারণ

নিচে এসব কারণ বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:

(ক) প্রাকৃতিক কারণ : পরিবেশের নানা প্রতিকূলতার কারণে দেশের বিভিন্ন ছোট ও বড় জলাশয়ে মাছের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এসব কারণকে প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রাকৃতিক বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়, আভারী বদ্ধ জলাশয়সহ সমুদ্রোকূলবর্তী এলাকার মাছের পরিমাণ ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে। মাছের পরিমাণ হ্রাসের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা যেসব কারণ উল্লেখ করেছেন, তা হলো :

১। পলিকরণ প্রক্রিয়া প্রতিবছর বন্যা, নদী ভাঙন প্রভৃতি কারণে পলির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ক্রমান্বয়েই নদীসহ দেশের বৃহদাকার জলাশয়সমূহ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। শুধু পলি জমাটকরণই নয়, পলি প্রবাহের কারণেও মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পলিকরণ প্রক্রিয়ার কারণে নদ-নদীতে ছোট-বড় নানা আকারের চর সৃষ্টি হয়। এতেও জলাশয়ের পরিবেশের অবনতি হয়। এ কারণে মাছের ডিম ও পোনা উৎপাদন এবং পক্ষান্ত্ রে মাছের উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে।

২। পানির পরিমাণ হ্রাসকরণ প্রক্রিয়া দেশের বিভিন্ন বৃহদাকার নদ-নদীতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং না করানোর ফলে নদীর তলদেশ ক্রমশই উঁচু হয়ে পড়ছে, কলে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণে মাছের পরিমাণ তো হ্রাস পাচ্ছেই, উপরন্তু এ প্রক্রিয়ায় অনেক মাছই প্রকৃতি থেকে ক্রমণ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পানির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার কারণে মাছের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশের যে অবনতি হচ্ছে, তার ফলে মাছের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে।

৩। খরা খরা ও মরুকরণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক নদী-নালা, খাল-বিল শুকিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতেও মাছের বংশ বৃদ্ধি হ্রাসপ্রাপ্তিসহ মাছ নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে, বিশেষত জলাশয় সঙ্কুচিত হওয়ার কারণে, ক্রমশই পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

৪। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস দেশের বিভিন্ন স্থানে মরুকরণ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাপক অঞ্চল জুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে। বৃষ্টিপাত যেহেতু মাছের পোনা উৎপাদনের একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে স্বীকৃত, সেহেতু পরিমাণমত পোনা না হওয়ার কারণে মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

খ) মানুষের নানা ধরনের কর্মকান্ডের ফলে মাছের উৎপাদন ও মাছের রেণু ও পোনার উৎপাদনও অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে। এসব কারণই মানবসৃষ্ট বা কৃত্রিম কারণ নামে পরিচিত। কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের এসব কর্মকান্ড এতটা ব্যাপক এবং সংহারক যে, তা প্রাকৃতিক কারণের চেয়ে ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়।

নিচে মাছ উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী নানা ধরনের কর্মকান্ডের বিবরণ এবং এসবের জন্য মাছের উৎপাদন যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা আলোচনা করা হলো।

১। জনসংখ্যা বৃদ্ধি জনসংখ্যার অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে মাছের উৎপাদন অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে। জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের জলাশয়সমূহ পূর্বের চেয়ে অনেকাংশ কমে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত জলাশয়সমূহে যে চাপ পড়ছে, তা পরোক্ষভাবে মাছের উৎপাদনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

২। মাছের চাহিদা বৃদ্ধি : জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মাছের চাহিদাও অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একেই তো জলাশয়ের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে, তদুপরি ক্রমহ্রাসমান জলাশয় থেকে আশানুরূপ মাছের উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাছের চাহিদা পূরণের জন্য মৎস্যজীবিরা জলাশয়ে পোনা বা ডিমওয়ালা মাছ খাই পাচ্ছে ধরে নিয়ে এসে বাজারজাত করছে। এতে সার্বিকভাবে মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

৩। জলাশয়ের চারিত্রিক পরিবর্তন : জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে বাসযোগ্য স্থানের অভাব দেখা দেওয়ায় জলাশয়সমূহে ক্রমশই ভরাট করে বাসযোগ্য স্থানে পরিবর্তন করা যাচ্ছে। এছাড়াও অনেক জলাশয়কে কৃষিক্ষেত্রে পরিবর্তিত করা হচ্ছে। এর ফলেও মাছের উৎপাদন অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে।

৪। কীটনাশক প্রয়োগ বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষিক্ষেত্রের অবস্থান জলাশয়সমূহের কাছাকাছি। ফলে কৃষিক্ষেত্রে বালাইনাশক হিসেবে যেসব কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সহজেই সেচের পানির মাধ্যমে জলাশয়ে পতিত হচ্ছে। এতে জলাশয়ের পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। মারা যাচ্ছে ডিমযুক্ত মাছ। অনেক মাছ কীটনাশকের তীব্রতায় নিজেদের স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র পাড়ি দিচ্ছে। এসব কারণেও মাছের উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

৫। কলকারখানার বর্জ্যপদার্থ নিঃসরণ বাংলাদেশের অনেক নদী এবং জলাশয়ের আশেপাশে নির্মাণ করা হয়েছে নানা ধরনের কলকারখানা। এসব কলকারখানা থেকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ নিঃসৃত হচ্ছে পার্শ্ববর্তী জলাশয়ে। এ কারণেও জলাশয়ে মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে ব্যাপকভাবে।

৬। সেচ ও বাঁধ নির্মাণ দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাশয়ে কৃষি সুবিধার জন্য নানা ধরনের ছোট-বড় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক মাছের চলাচলের সুবিধার জন্য ফিশ পাস নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কৃত্রিম স্থাপনা মাছের উৎপাদন হ্রাসের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, ফলে মাছের উৎপাদনও যথেষ্ট হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের কারণে মাছ বিচরণের জন্য প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারছে না। এ কারণও মাছের উৎপাদন হ্রাস করার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখছে।

 

মাছের সংজ্ঞা, মাছের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাছের গুরুত্ব

 

মৎস্য সম্পদ হ্রাসের প্রতিকার

বাংলাদেশে মৎস্য সম্পদ বিভিন্নভাবে হ্রাস পাচ্ছে এ প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তর চাহিদা পূরণের লক্ষে এসব সমস্যা দূর করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্তভাবেই প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৎস সম্পদ হ্রাস থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কিন্তু মাছের উৎপাদন কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় এ ব্যাপারে দেশের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বেশ চিন্তিত। এ সমস্যা দূরীকরণে নানা ধরনের সুপারিশ রয়েছে। এসব সুপারিশকে আলোচনার সুবিধার্থে দুভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

(১) মাছের বাসস্থান উন্নয়ন এবং

(২) সমন্বিত মাছ চাষ কার্যক্রম। নিচে এসব বিষয়ে পৃথক পৃথকভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

(১) মাছের বাসস্থান উন্নয়ন মাছের বাসস্থান উন্নয়ন করে মাছের উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব। বাংলাদেশের মাছের বাসস্থানকে সাধারণভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- (ক) বন্ধ জলাশয় (খ) মুক্ত জলাশয় এবং (গ) উপকূলীয় জলাশয়।

খুব সহজেই এসব বাসস্থান উন্নয়ন করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। সরকার বিভিন্ন উপায়ে এসব বাসস্থান সংস্কার এবং উন্নয়ন করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করার ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে মৎস্য সম্পদ হ্রাসের পরিমাণ অনেকাংশে কমে যাচ্ছে। সরকারের সাথে অবশ্য বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নিচে সরকার এবং এসব প্রতিষ্ঠানের গৃহীত প্রচেষ্টা উল্লেখ করা হলো।

(ক) বন্ধ জলাশয় : বন্ধ জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক সুফল পাওয়া গেছে। এর ফলে মাছের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি মৎস্য সম্পদ হ্রাসের আশংকাও অনেকাংশে দূরীভূত হয়েছে।

এসব গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে- দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত এবং চাষযোগ্য খাল-বিল, নদী-নালা, হাওড়- বাগুড়, দিঘি-পুকুর ও ডোবাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নানা ধরনের উচ্চফলনশীল মাছের চাষাবাদ করা হচ্ছে। এসবের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে পোনা সরবরাহের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অসংখ্য হ্যাচারি নির্মাণ করা হয়েছে।

হাজামাজা পুকুর সংস্কার করে সেখানে মৌসুমী পর্যায়ে হলেও মাছ চাষাবাদ করার জন্য জনসাধারণকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা যাচ্ছে। এ জন্য সরকারি পর্যায়ে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। চাষাবাদের মূলধন জোগাড়ের জন্য সরকার থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও প্রদান করা
হচ্ছে।

(খ) মুক্ত জলাশয় : বাংলাদেশে বিস্তৃত মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের সংস্কারমূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। যেমন- দেশের বিভিন্ন মুক্ত জলাশয়ে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চ ফলনশীল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। একই সাথে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস যাতে না হয়, সেজন্য মৎস্য আইনের প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে। নদ-নদীসহ বৃহদাকার জলাশয়ে মাছের অভয়ারণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে মাছের পরিভ্রমণ এবং বিচরণ নিশ্চত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে কয়েক প্রজাতির মাছ, ডিমযুক্ত মাছ এবং নির্দিষ্ট আকারের কয়েক প্রজাতির মাছের পোনা সংগ্রহ একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধনকারী কারেন্ট জালের ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ জাল ব্যবহারকারীদের জেল জরিমানাসহ নানা ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

(গ) উপকূলীয় জলাশয় ঃ- বাংলাদেশের বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকাতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যও নানা ধরনের সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রধানত বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি চাষাবাদ করা হয়। চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন ধরনের সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমের সাথে সাথে এর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, হ্যাচারি স্থাপন ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ির সাথে অন্যান্য প্রজাতির মাছও চাষের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। চিংড়ির সাথে চাষযোগ্য এসব মাছ সাধারণভাবে সাদা মাছ হিসেবে পরিচিত।

২। সমন্বিত মাছ চাষ কার্যক্রম বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সেচ এলাকাতে নির্মিত বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোসমূহ নানাভাবে মাছের প্রজনন এবং বংশ বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এসব জলাশয়ে নানাজাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে অধিক মাছ ফলাও অভিযান বেশ জোরেসোরেই চলছে।

বিভিন্ন খাল বিল ও ছোটখাটো গর্তে মাছ চাষ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্প্রসারণ কার্যক্রমের দিকে সরকার এবং বিভিন্ন এনজিও বেশ জোর দিচ্ছেন। এতে মাছের উৎপাদন যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটছে।

শুধু তাই নয়, দেশে বিভিন্ন চাষোপকরণ ব্যবহার করার মাধ্যমে সমন্বিত মাছ চাষ কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে ধানের সাথে মাছ চাষ, হাঁস বা মুরগীর সাথে মাছ চাষ, গবাদি পশুর সাথে মাছ চাষ, মুক্ত ও মাছ চাষ, শৈবাল ও মাছ চাষ ইত্যাদি কার্যক্রম ও হাতে নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য এসব কার্যক্রম প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরীক্ষামূলক হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এসব কার্যক্রম সুফলদায়ক বলে প্রামণিত হয়েছে। একইসাথে সরকারি মালিকাধীন খাস জমি এ ধরনের মাছ চাষে বন্দোবস্ত দেওয়ার ফলে মাছের উৎপাদনও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে চলছে সমন্বিত মাছ কার্যক্রমের উপযোগিতা সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রম।

সারমর্ম

  • বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ মাছ ।
  • এদেশের মানুষের দৈনিক পুষ্টি চাহিদার শতকরা ৮০ ভাগই আসে মাছ থেকে।
  • মাছ চাষের জন্য এদেশের জলবায়ু খুবই উপযোগী।
  • বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ মাছ চাষের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
  • মাছ বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
  • বাংলাদেশে বর্তমানে মাছ চাষের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • দেশে বিভিন্ন জলাশয়ে নানাজাতের মাছের পোনা ছেড়ে মাছ চাষ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চলছে।
  • সমন্বিত মাছ চাষ কার্যক্রম পরীক্ষামূলক হলেও নানাস্থানে এটি সুফলদায়ক হয়েছে।

Leave a Comment