বন, বনের ধরন ও বনায়ন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বন, বনের ধরন ও বনায়ন – যা বনায়ন এর অন্তর্ভুক্ত।

বন, বনের ধরন ও বনায়ন

 

বন, বনের ধরন ও বনায়ন

 

বন

বৈশিষ্ট্যসূচক বাহ্যিক চেহারা ও গঠনসহ গাছপালার একককে বন বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়। প্রাকৃতিক উপায়ে আপনা হতে যখন ছোট-বড় বৃক্ষলতা ও গাছপালা জন্মে বিস্তীর্ণ এলাকা আচ্ছাদিত করে ফেলে, তখন সে বিস্তীর্ণ এলাকাকে বনভূমি বলে । অরণ্য বা বন হল ঘন বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের দ্বারা ঘেরা একটি এলাকা।

বনায়ন

বনায়ন হলো বনভূমিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে গাছ লাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা। সঠিকভাবে বনায়ন করা সম্ভব হলে, সর্বাধিক বনজ দ্রব্য উৎপাদিত হয়। এসব বনজদ্রব্য হলো কাঠ, জ্বালানি, বনৌষধি, ফল, মধু, মোম প্রভৃতি। বনায়নের জন্য আমাদের বিভিন্ন প্রকার বনজ বৃক্ষ, ফলজ বৃক্ষ, নির্মাণ সামগ্রী ও ঔষধি উদ্ভিদ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা দরকার। এ অধ্যায়ে আপনি এসব উদ্ভিদের পরিচিতি, চাষ পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবেন।

পাশাপাশি নার্সারিতে নতুন চারা তৈরি করতে পারবেন। প্রাত্যহিক জীবনে বনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং এ সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

বনের বৈশিষ্ট্যঃ

প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম যেভাবেই বন সৃষ্টি হউক না কেন, একটি বনের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য থাকে যা নিম্নরূপঃ

১। প্রাকৃতিকভাবে গঠিত এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় আচ্ছাদিত বৃক্ষরাজির সমষ্টিই হল বন।

২। বনের আয়তন বিশাল হবে এবং যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির বৃহদাকার বৃক্ষরাজি থাকবে।

৩। বড় বৃক্ষের পাশাপাশি ছোট-বড় ঝোপঝাড় থাকবে।

৪। বনে বৃক্ষরাজির স্তরবিন্যাস থাকবে অর্থাৎ গাছপালা উঁচু, নিচু ও মাঝারি স্তরে বিন্যস্ত থাকবে।

৫। বিভিন্ন বৈচিত্র্যের বন্য প্রাণী, পাখি ও কীট-পতঙ্গ থাকবে।

৬। বনের গাছপালা ও পশু পাখির খাদ্যস্তর ও খাদ্য শিকলের মধ্যে আন্তঃক্রিয়া থাকবে।

 

বন, বনের ধরন ও বনায়ন

 

বনের ধরন ও শ্রেণীভুক্তিকরণ

বিভিন্নভাবে এবং বিশেষত্বের বিভিন্ন মাপকাঠিতে বাগুলিকে শ্রেণীভুক্ত করা হয়। তারই একটির পরিভাষা হলো বায়োম । প্রজাতির অধিকাংশের পাতার দীর্ঘজীবনের সঙ্গে কীভাবে গাছপালা টিকে থাকে তাকেই প্রকাশ করা হয় এ বায়োম শব্দ দিয়ে । আরেকটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের বন রয়েছে, যেখানে বনগুলি বড় পাতার গাছ, সরলবর্গীয় (সুঁচালো পাতা) গাছ অথবা মিশ্র ধরনের গাছ দিয়ে সাজানো থাকে।

১. উপমেরু অঞ্চলে অরণ্য রয়েছে। এগুলি সাধারণত চির হরিৎ ও সরলবর্গীয় ধরনের হয়।

২. শীতপ্রধান এলাকায় বড় পাতার পর্ণমোচী গাছের বন (যথা- শীতপ্রধান পর্ণমোচী বন) এবং চির হরিৎ সরলবর্গীয় বন (যথা- শীতপ্রধান সরলবর্গীয় বন ও শীতপ্রধান বৃষ্টি অরণ্য), আবার উভয় ধরনের বই হতে পারে। গ্রীষ্মপ্রধান  এলাকায় আবার জলপাই জাতীয় বৃক্ষের চিরসবুজ পাতাওয়ালা গাছের বনসহ বড় পাতার চিরহরিৎ অরণ্য টিকে থাকতে পারে।

৩. ক্রান্তীয় এবং প্রায় ক্রান্তীয় বনের অন্তর্ভূক্ত হলো ক্রান্তীয় এবং প্রায় ক্রান্তীয় আর্দ্র বন, ক্রান্তীয় এবং প্রায় ক্রান্তীয় শু বন এবং ক্রান্তীয় ও প্রায় ক্রান্তীয় সরলবর্গীয় বন ।
কোনো জঙ্গলের সাধারণ বৈশিষ্ট্য তাদের সামাগ্রিক প্রাকৃতিক কাঠামো অথবা উন্নয়েনের বিভিন্ন পর্যায়ের অবস্থার ভিত্তিতে শ্রেণী বিন্যস্ত হয়। জলবায়ু ও কোন প্রজাতির গাছ বেশি রয়েছে, তার ভিত্তিতেও বনগুলিকে আরো নির্দিষ্টভাবে শ্রেণী বিন্যস্ত করা যায়, ফলস্বরূপ বহু ধরনের বনের ধরন পাওয়া যায় (যথা, পোন্দেরোসা পাইন / ডগলাস ফার বন)

 

 

সারসংক্ষেপ

লোকালয় থেকে দূরে যখন অনেক গাছপালা একত্রে জন্মায় এবং যেখানে বন্য পশুপাখি একত্রে বসবাস করে তখন তাকে বন বলা হয়। গোটা বিশ্বে বহু সংখ্যক বন প্রকারভেদ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু কোনাটাই সর্বজনীন স্বীকৃত নয়। অন্যান্য জটিল ব্যবস্থার থেকে বন প্রকারভেদ ব্যবস্থা একটা সরলীকৃত ব্যবস্থা। বিশ্বজুড়ে এ ব্যবস্থাটি বনগুলিকে ২৬টি মূল শ্রেণীতে ভাগ করেছে, যাতে জলবায়ু এলাকার পাশাপাশি প্রধান গাছপালার চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

 

Leave a Comment