রিকশাচালক থেকে সফল মাশরুম চাষী হাসিব, বছরে আয় ৭-৮ লাখ টাকা

নারায়ণগঞ্জের তিনগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ হাসিব একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে তার স্বপ্ন ছিল ভিন্ন কিছু করার। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। রিকশা চালিয়ে আয় করলেও সেটিতে তৃপ্তি খুঁজে পাননি। নতুন কিছু করার তাগিদ থেকেই মাশরুম চাষে নামেন তিনি।

২০২০ সালে এক বন্ধুর পরামর্শে মাত্র এক হাজার টাকার মাশরুমের স্পন কিনে চাষ শুরু করেন হাসিব। প্রথমদিকে কিছু ব্যর্থতা থাকলেও অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি সফল হন। বর্তমানে তিনি মাশরুম চাষ ও স্পন উৎপাদনের মাধ্যমে বছরে ৭-৮ লাখ টাকা আয় করছেন। শুধু নিজের জন্যই নয়, তিনি আশপাশের অনেককেও মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।

হাসিব জানান, ইউটিউবে ঘন্টার পর ঘন্টা ভিডিও দেখে মাশরুম চাষের কৌশল শিখেছেন। পরে সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই স্পন তৈরি শুরু করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও একাধিকবার চেষ্টার পর সফল হন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন ৮-১০ কেজি মাশরুম বিক্রি করেন, যেখানে প্রতি কেজি ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া শুকানো মাশরুম ১০০০-১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।

নিজের ভাড়া বাসার এক কক্ষকে ল্যাবরেটরি বানিয়ে হাসিব মাশরুমের স্পন উৎপাদন করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বাড়ির পাশে জমি ইজারা নিয়ে দুটি টিনশেড কক্ষে মাশরুম চাষ চালিয়ে যাচ্ছেন। মৌসুমে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করলেও বেশিরভাগ সময় স্ত্রী ও সন্তানদের সহযোগিতায় কাজ চালান।

তার স্ত্রী সাদিয়া সংসারের কাজ সামলে হাসিবকে সহায়তা করেন। হাসিবের মা শিল্পী বেগম জানান, ছেলের এই সফলতা তাদের পরিবারের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। হাসিবের মেয়ে হাবিবা তাবাসসুমও স্কুলের ফাঁকে বাবার কাজে সহযোগিতা করে।

হাসিবের স্বপ্ন, মাশরুমকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা এবং দেশের আরও তরুণ উদ্যোক্তাদের মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ করা। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পেলে আগামী বছরে তার আয় দ্বিগুণ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।