বরগুনা, ৩ মার্চ ২০২৫ (বাসস): বাংলাদেশের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এর গবেষণা অনুযায়ী, বরগুনা বরিশাল অঞ্চলের সবচেয়ে লবণাক্ত এলাকা, যেখানে ৯৫ হাজার ৬২০ হেক্টর জমি লবণাক্ততার শিকার। এই জমিগুলোর লবণের মাত্রা ১৬ থেকে ২৮.৫ ডেসিসিমেন পার মিটার (ডিএস/এম), যা সাধারণ চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল।
এ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মোকাবিলায় বরগুনার কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে লবণ সহিষ্ণু গম, ডাল, পাট ও সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছেন। বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলিমুর রহমান জানান, একবার জমি লবণাক্ত হয়ে গেলে তা আগের অবস্থায় ফেরানো কঠিন, তবে লবণ সহিষ্ণু ফসল চাষ করে এই জমিগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
২০০৭ সালের সিডরের আগে বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলে মূলত আমন ধানের চাষ হতো, যা ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে কাটা হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততা বেড়ে গিয়ে জমি পতিত থাকতো। সেচের পানির অভাবের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে শুষ্ক মৌসুমে কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হতো না।
এই সমস্যা সমাধানে কৃষি গবেষকরা ২০১৭ সাল থেকে লবণাক্ত পতিত জমিতে গমসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এতে দেখা যায়, গম প্রকৃতিগতভাবে কিছুটা লবণসহিষ্ণু, যা অল্প পানি সেচ দিয়েই ভালো ফলন দিতে পারে। গবেষণার মাধ্যমে রিলে পদ্ধতিতে গম ও মুগ ফসলের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়, যা কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সম্প্রতি নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে আঁশজাতীয় ফসল ‘কেনাফ’। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) জানিয়েছে, কেনাফ পাটের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে এবং লবণাক্ত, খরা ও অনাবৃষ্টি মোকাবিলা করেও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সক্ষম। পটুয়াখালী পাট গবেষণা উপকেন্দ্রের কর্মকর্তা সৈয়দ আফলাতুন কবির জানান, কেনাফ চাষ সম্প্রসারিত হলে বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পতিত জমিগুলো কৃষির আওতায় আসবে।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক এসএম বদরুল আলম জানান, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কম বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ লবণাক্ততা ছড়িয়েছে। তবে কৃষকদের নতুন ফসল চাষের আগ্রহ ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
