ফলের মাছি পোকা দমনে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেন বাকৃবি গবেষক

ময়মনসিংহ, ৬ মার্চ ২০২৫ (বাসস): ফলের মাছি পোকা বিশ্বব্যাপী হর্টিকালচার শিল্পের অন্যতম প্রধান বাধা। এটি অনেক দেশে ‘কোয়ারেন্টাইন পেস্ট’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে ইউরোপে আমসহ বিভিন্ন ফল রপ্তানিতে সমস্যা সৃষ্টি করে।

এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান নতুন একটি ‘ফ্রুট ফ্লাই ট্র্যাপ’ উদ্ভাবন করেছেন। তার উদ্ভাবিত এই ট্র্যাপ মাছি পোকা দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, যা পরিবেশবান্ধব এবং ব্যয়সাশ্রয়ী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছি পোকা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। যেমন, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় ‘মাসট্র্যাপিং’ পদ্ধতি প্রচলিত, যেখানে পুরুষ মাছি পোকাকে আকৃষ্ট করে ধ্বংস করা হয়, ফলে স্ত্রী পোকাদের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। বাংলাদেশে প্রচলিত ট্র্যাপে সাধারণত লিউর এবং সাবান-পানি ব্যবহার করা হয়, তবে কার্যকারিতা বজায় রাখতে এসব পদ্ধতিতে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ড. মঞ্জুর খানের উদ্ভাবিত ট্র্যাপে কোনো রাসায়নিক বা পানি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। বিশেষ গঠনশৈলীর কারণে পোকাগুলো একবার প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না, ফলে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি কুমড়া, লাউ, করলা, তরমুজ, বাঙ্গি, আম, পেয়ারা, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফসলে সফলভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব।

গবেষকের মতে, এই ট্র্যাপের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে কৃষকদের জন্য এটি সহজলভ্য হবে, ফলে কীটনাশকের ব্যবহার কমবে, ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একটি ট্র্যাপ উৎপাদনে আনুমানিক ৫০ টাকা খরচ হবে এবং এটি পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে, শুধুমাত্র লিউর পরিবর্তন করলেই চলবে।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) এক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা এই উদ্ভাবনের প্রশংসা করেছেন। প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত করতে এখন এর পেটেন্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রয়োজন বলে জানান গবেষক।

অধ্যাপক ড. মঞ্জুর খান ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে গবেষণা শুরু করেন এবং ২০২০ সালে এই প্রযুক্তির চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অর্থায়নে নিরাপদ আম উৎপাদনে এ ট্র্যাপের কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা চলছে।