শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ ও পরিচর্যা বিষয়ক ব্যবহারিক পাঠ – আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি কৃষি শিক্ষা ২য় পত্রের ১৫ নং ইউনিটের, ১৫.৬ নং পাঠ।
Table of Contents
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ ও পরিচর্যা বিষয়ক ব্যবহারিক পাঠ

মূলতত্ত্ব :
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা ও ইহার অভ্যন্তরীন রাস্তা ঘাটের আশে পাশে এবং পতিত জমি সমূহে বিভিন্ন ধরণের বনজ, ফলদ, ঔষধি গাছসহ বাহারী গাছপালা রোপণ করা যায়। চারা রোপণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং রোপণ পরবতীর্ পরিচযার্ চারার বৃদ্ধি ও নিখুঁতভাবে বেড়ে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ ও ইহার পরবর্তী পরিচর্যা সমূহ ধাপে ধাপে নিম্নে আলোচনা করা হলো।
ক) গাছের চারা রোপণের জন্য গর্ত খনন প্রাসঙ্গিক তথ্য :
বনজ বৃক্ষের অধিকাংশই মূল্যবান কাষ্টল গাছ। এসব গাছের সুষম বৃদ্ধি ও উন্নয়ণের জন্য চারা লাগানোর পূর্বে গর্ত খনন করতে হবে ও প্রয়োজনীয় সার মেশাতে হবে।

ব্যবহারিকের প্রয়োজনীয় উপকরণ :
এ কাজের জন্য কোদাল, শাবল, দা, কুড়াল, ঝুড়ি, খুটি, পলিথিন, জৈব ও রাসায়নিক সার।
ব্যবহারিকের কাজের ধারা :
১. প্রথমে যে স্থানে গাছের চারা লাগানো হবে সে স্থানের যাবতীয় আগাছা দিয়ে কেটে পরিষ্কার করুন।
২. এবার চারা রোপণের জন্য নির্ধারিত স্থানে গর্তের জন্য খুটি গেড়ে চিহ্নিত করুন।
১. তারপর ঐ নিম্নের চিত্রের অনুরূপ স্থানে ৫০ সে.মি. দৈর্ঘ্য, ৫০ সে.মি. প্রস্থ ও ৫০ সে. মি. গভীর গর্ত খনন করুন।
২. গর্ত খননের সময় উপরের মাটি এক পাশে এবং নিচের মাটি অন্য পাশে রাখুন।
৩. গের্তর উপরের মাটি একটু শুকিয়ে ভালোভাবে গুড়া করে গর্তের নিচে দিন। এবার মাটির সাথে ১০—১৫ কেজি গোবর ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৩০০—৪০০ গ্রাম টিএসপি ও এমপি সার দিয়ে ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন।
৪. এবার প্রতিটি গর্তে একটু পানি দিয়ে ১২—১৫ দিন পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখুন।
সাবধানতা :
১. সঠিক দূরত্বে গর্ত করা হচ্ছে কিনা তাহা লক্ষ্য রাখুন।
২. গর্তে প্রয়োগের সার ভালোভাবে মিশানো হয়েছে কিনা খেয়াল করুন।
৩. সাবধানে গর্ত করুন যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হন।
খ) বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ প্রাসঙ্গিক তথ্য :
সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে চারা রোপণ করা জরুরী। সাধারণত বনজ বৃক্ষের চারা বর্গাকার বা ত্রিভুজাকার নকশা অবলম্বন করে রোপন করা হয়। সারি থেকে সারি এবং গাছ থেকে গাছের দূরুত্ব ১০—১২ মিটার হবে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ :
ক) নির্বাচিত বৃক্ষের চারা খ) কোদাল (গ) খুটি ও রশি (ঘ) ঝাঁঝরি (ঙ) পানি।
কাজের ধারা :
১. পূর্বে খনন কৃত গর্তে দেয়া সার ও মাটি কোদাল দ্বারা কুপিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন
২. তারপর গর্তের মাঝখান থেকে চারার গোড়ার মাটির সমপরিমান মাটি সরিয়ে গর্ত করুন
৩. এবার চারার পলিব্যাগটি ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলুন
৪. এখন দুই হাত দিয়ে চারাটি সোজাভাবে গের্ত বসিয়ে দিন
৫. চারার চার পাশে মাটি চেপে দিন যেন চারার গোড়ার মাটি পাশ্ববর্তী মাটি থেকে খানিকটা উচুঁ থাকে। ৬. এবার ঝাঝরি দিয়ে প্রয়োজনমত পানি দিন ও খুটি দিয়ে চারাটি হালকা করে বেধে দিন।
সাবধানতা :
১. চারা লাগানোর সময় পলিব্যাগ সাবধানে কাটুন যাতে চারার গোড়ার মাটি ভেঙ্গে না যায়।
২. চারা রোপণের সময় যাতে শিকড়ের ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
গ) চারা রোপণ পরবর্তী পরিচর্যা প্রাসঙ্গিক তথ্য :
বৃক্ষের চারা রোপণের পর নিয়মিত পানি, সেচ, আগাছা ও রোগবালাই দমন করতে হবে। প্রয়োজনীয় উপকরণ : ক) নিড়ানি খ) ঝাঁঝরি গ) বেড়া দেবার সামগ্রী ঘ) রশি ঙ) বালতি ও পানি ইত্যাদি। কাজের ধারা :
১. চারা লাগানোর পর পর চারার গোড়ায় পানি দিন
২. চারা যেন গরু ছাগল বা ছোট ছোট বাচ্চারা খেলার ছলে উপড়ে না ফেলে সেজন্য বেড়া দিন।
৩. চারা বর্ষার আগে পরে দু’বার প্রয়োজনমত সার দিন।
৪. গাছ লাগানোর পর প্রথম দিকে ঘন ঘন আগাছা পরিষ্কার করে দিন।
৫. রোগ বালাইয়ের আক্রমণ হলে দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

সাবধানতা :
১. চারা লাগানোর পর চারার গোড়ায় যাতে অতিরিক্ত পানি না জমে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
২. বর্ষার সময়ে নালা কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন।
