আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মাৎস্যসম্পদ আন্তঃক্রিয়া। যে ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বা আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় তাকে বলা হয় মিউচুয়ালিজম। তাছাড়া ব্যক্তি, দল, সমষ্টির জনগণের সুসম্পর্ক, বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থাকেও আন্তঃক্রিয়া বলে। লাভজনক এ আন্তঃক্রিয়াকে মিউচুয়ালিজম (Mutualism) ও কমেনসেলিজম (Commensalism) নামে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
Table of Contents
মাৎস্যসম্পদ আন্তঃক্রিয়া

আন্তঃক্রিয়ার প্রকার:
ফসল-মাৎস্য সম্পদ আন্তঃক্রিয়া প্রধানত ছয়টি। এ আন্তঃক্রিয়াসমূহ দুটি সম্পদের মধ্যকার সংযোগের ফলে সৃষ্টি হয়। নিম্নে এগুলির সংপ্তি বিবরণসহ নাম দেয়া হলো ।
আন্তঃক্রিয়ার বিবরণ:
জৈব-পরিবেশগত সংযোগ (Ecological linkage ):
এ ক্ষেত্রে ভূমির ফসল উৎপাদনে ব্যবহার পরবর্তীতে মাছ চাষে সহায়ক হয়। মৌসুমে প্লাবিত ধান, বিল, ডোবা প্রভৃতি স্থানে ফসলের অবশিষ্টাংশ পচে মাছের খাদ্য হয় এবং পরে এসব স্থানে মাছ চাষ করা হয়।
বিনিময় সংযোগ (Exchance linkage ):
একজন চাষী ও একজন জেলে অথবা দুজন চাষীর মধ্যে ফসল ও মাৎস্য দ্রব্যের আদান-প্রদান হলে এই বিনিময় সংযোগ হয় ।
প্রতিযোগিতা সংযোগ (Competition linkage ):
একই জমি একই সময়ে মাছ ও ফসল দুটোই উৎপাদনের উপযোগী হলে প্রতিযোগিতা সংযোগ হয় । যেমন— অগভীর বিল, ডোবা, বর্ষাকালে প্লাবিত নিচু জমি ইত্যাদি ।

বিনিয়োগ সংযোগ (Investment linkage ):
একটি উৎপাদনে প্রাপ্ত অর্থ অন্যটিতে খাটানো হলে বিনিয়োগ সংযোগ ঘটে। যেমন- খামারে উৎপাদিত মাছের আয় হলে ধান বা অন্য ফসলে বিনিয়োগের সুবিধা হয়। আবার এর উল্টোটিও হতে পারে ।
খাদ্য সংযোগ (Food linkage ):
কৃষক পরিবারের খাদ্য তালিকায় ভাতের পরেই মাছের স্থান। এেেত্র মাছ খাদ্যে সম্পূরক ভূমিকা রাখছে।
মাছ খাদ্য-সংযোগ (Feed linkage ):
ফসলের উপজাত কুঁড়া, ভূষি ও খৈল মাছের খাদ্যরূপে ব্যবহৃত হয়। আবার মাছের গুঁড়া, মাছের উচ্ছিষ্ট, মাছের আঁইশ প্রভৃতি কোন কোন ত্রে জমির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয় ।
