আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সমন্বিত খামারের শর্তাবলী ও ল্য
Table of Contents
সমন্বিত খামারের শর্তাবলী ও ল্য

সমন্বিত খামারের শর্তাবলী
কৃষি পরিবেশ অনুকূল থাকলেও সমন্বিত খামার গড়ে তুলতে হলে বিভিন্ন সম্পদ ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। সম্পদ ও প্রযুক্তির এই প্রয়োজনীয়তাকে সমন্বিত খামারের শর্তাবলী বলা হয়। সমন্বিত খামারের পাঁচটি শর্তাবলী নিম্নরূপ-
- ভূমি (Land)
- পুঁজি (Capital)
- শ্রমিক (Labour)
- প্রযুক্তি/ব্যবস্থাপনা (Technology / Management))
- উৎপাদন সময় (Production time)
এ শর্তাবলী বিভিন্ন প্রকার সমন্বিত খামারে ভিন্নতর হয়ে থাকে। এই শর্তাবলীর প্রয়োজনীয় অবস্থা সংেেপ সারণি ৪-এ দেখানো হলো। বিভিন্ন সমন্বিত খামারের প্রতিষ্ঠায় তা আলোচনা করা হলো।
পোল্ট্রিভিত্তিক সমন্বিত খামার
এটি খুব অল্প ভূমি ও খুব কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায়। তবে এখানে অনেক শ্রমিক ও নিবিড় প্রযুক্তি/ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়। উৎপাদন পেতে সময় অল্প লাগে।
ডেইরীভিত্তিক সমন্বিত খামার
এটি বেশি ভূমি ও অত্যাধিক পুঁজি নিয়ে শুরু করা প্রয়োজন। শ্রমিক তুলনামূলকভাবে কম লাগে । প্রযুক্তি/ব্যবস্থাপনা আধানিবিড় হলে চলে। কিন্তু উৎপাদন পেতে অধিক সময় প্রয়োজন।
সারণি ৪ : সমন্বিত খামার ব্যবস্থার শর্তাবলী ও এগুলোর প্রয়োজনীয় অবস্থা

মাৎস্যভিত্তিক সমন্বিত খামার
এটি অল্প জমি ও কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায়। শ্রমিকও কম লাগে। প্রযুক্তি/ব্যবস্থাপনা ডেইরীর চেয়ে কম নিবিড়। তবে উৎপাদনের সময় অধিক লাগে। কিন্তু ধান তে মাছ বা চিংড়ি চাষ করলে সময় কম লাগে, এতে ভূমি বেশি লাগে।
ফসলভিত্তিক সমন্বিত খামার
এ খামার ফসলের প্রকারের উপর নির্ভরশীল। যেমন- শাকসবজিভিত্তিক সমন্বিত খামার কম ভূমি ও কম পুঁজিতে শুরু করা যায়। এক বা দ্বিবর্ষী ফসল (ফল) ভিত্তিক সমন্বিত খামারে আরও বেশি ভূমি ও বেশি পুঁজির প্রয়োজন হয়। অন্যান্য বহুবর্ষী ফসল (ফল) ও মাঠ ফসলভিত্তিক সমন্বিত খামারে খুব বেশি ভূমি ও অধিক পুঁজির প্রয়োজন হয়।
সকল প্রকার ফসলভিত্তিক খামারেই অনেক শ্রমিক ও অধিক নিবিড় প্রযুক্তি/ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। উৎপাদনের সময় শাকসবজি ও মাঠ ফসলে কম এবং ফল চাষে অধিক লাগে ।
বাংলাদেশের কৃষকের অবস্থা
সরকারি পরিসংখ্যান মতে (১৯৯৫) বাংলাদেশে এক কোটির উপর কৃষক পরিবার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভূমিহীন হচ্ছেন প্রায় অর্ধেক (শতকরা ৪৯ জন)। এর পরেই রয়েছেন দ্র কৃষকগণ, যাঁরা শতকরা ৩২ জন। দেশে মাঝারী কৃষক শতকরা ১৫ জন এবং বড় কৃষক শতকরা ৪ জন। অপরদিকে কৃষি ভূমির মালিকানা এর বিপরীত।
যেমন— ভূমিহীন ও দ্র কৃষকগণ মিলে দেশের কৃষি ভূমির শতকরা ২৯ ভাগের মালিক। মাঝারী কৃষকগণ মোট কৃষি ভূমির শতকরা ৪৫ ভাগ ও বড় কৃষকগণ শতকরা ২৬ ভাগের মালিক।এখন আমরা সাধারণভাবে বাংলাদেশে কৃষকগণের বিরাজমান সম্পদ, উৎপাদন ও ভোগ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি সুবিধা নিয়ে আলোচনা করছি। এগুলো চিত্র ১১-তে দেখানো হলো।
সম্পদ ভিত্তি
বিভিন্ন প্রকার কৃষকের ভূমি, পুকুর, গৃহপালিত পশু ও পাখি, শ্রমিক এবং পুঁজির বিরাজমান অবস্থা বুঝার জন্য চিত্র ১১ (ক) দেখুন । নিজস্ব ভূমি, পুকুর, গৃহপালিত পশু ও পুঁজি ভূমিহীনদের সবচেয়ে কম রয়েছে। এগুলোর পরিমাণ দ্র কৃষক হতে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বড় কৃষকের েত্রে সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
নিজস্ব গৃহপালিত পাখি (হাঁস-মুরগি) ও শ্রমিক সরবরাহ ভূমিহীনদের বেশি। একইভাবে বর্গা নেয়া ভূমি ও গৃহপালিত পশুপাখি ভূমিহীনদের সবচেয়ে বেশি এবং বড় কৃষকগণের তা নেই। লিজ নেয়া পুকুর ও ঋণ করা পুঁজি সুবিধা বড় কৃষকদের সবচেয়ে বেশি। এগুলো মাঝারী কৃষক হতে ক্রমান্বয়ে কমে ভূমিহীনদের সবচেয়ে কম আছে।
উৎপাদন ও ভোগ ব্যবস্থা
বিভিন্ন খাদ্য, জ্বালানি ও উপজাত ভূমিহীনরা সবচেয়ে কম উৎপাদন করতে পারেন। তাই বেশি ক্রয় করে ভোগ করেন। দ্র কৃষক হতে উৎপাদন ক্রমে বাড়ছে, আর ক্রয় কমছে। বড় কৃষক এগুলো বেশি উৎপাদন ও কম ক্রয় করে ভোগ করছেন।

চিত্র : কৃষকের সম্পদ ভিত্তি, ভোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি সুবিধা
বর্জ্য সংগ্রহ বেশি করেন ভূমিহীনরা আর উৎপাদন বেশি করেন বড় কৃষক | চিত্র ১১ (খ)]। উৎপাদন ও ভোগ ব্যবস্থা থেকে এটা সুস্পষ্ট হচ্ছে যে, ক্রয় নির্ভরশীলতা কমাতে ভূমিহীন ও দ্র কৃষকগণের বিভিন্ন খাদ্য, জ্বালানী ও অন্যান্য উৎপাদন আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান ।
প্রযুক্তি সুবিধা
নিজস্ব উদ্ভাবিত স্থানীয় প্রযুক্তি/ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কৃষকগণ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিও ব্যবহার করে থাকেন। প্রযুক্তি সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সুবিধা ভূমিহীনদের খুবই কম। এ সুবিধা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বড় কৃষকদের বেলায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে [চিত্র ১১ (গ)]। কেননা, বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি অফিসে যাতায়াত সুবিধা ও প্রচার মাধ্যমগত সুবিধা বড় ও মাঝারী কৃষকদের বেশি রয়েছে। এসব সুবিধা দ্র কৃষকদের কম, ভূমিহীনদের নেই বললেই চলে। প্রশিণ গ্রহণ সুবিধা বড় কৃষকের বেশি। সমন্বিত খামার ব্যবস্থার ল্য উপরোক্ত আলোচনা ও অবস্থার প্রো তে দেশে সমন্বিত খামার ব্যবস্থা সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় কিছু সুনির্দিষ্ট ল্য থাকা প্রয়োজন। এগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ-
- ভূমিহীন ও দ্র কৃষকদের জন্য পুঁজি সরবরাহ করে প্রাপ্ত শ্রমকে উৎপাদনে লাগানোর ব্যবস্থাকরণ।
- ভূমিহীন ও দ্র কৃষকদের জন্য প্রযুক্তি সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা সুবিধা বাড়ানো ও প্রশিণ ব্যবস্থা সৃষ্টিকরণ প্রয়োজন ।
- মাঝারী ও বড় কৃষকদেরকে সমন্বিত খামার গড়ে তোলার উপযোগী লাগসই
- প্রযুক্তি/ব্যবস্থাপনা প্রশিণ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টিকরণ। কৃষক ও উদ্যোক্তার হাতের কাছে উপকরণ, ঋণ, প্রযুক্তি ও প্রশিণ পৌঁছানোর প্রচেষ্টা গ্রহণ।
উদ্যোক্তার সম্ভাবনা
শি িত বেকার যুবক, দ্র বা বড় ব্যবসায়ী এবং যে কোন উদ্যোক্তা নিজ ভূমি, পুঁজি ও শ্রমিক ব্যবহারের সামর্থ্য অনুসারে উপযুক্ত প্রশি ণ গ্রহণ করে যে কোন ধরনের সমন্বিত খামার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এেেত্র উদ্যোক্তাদের উপযুক্ত কৃষি পরিবেশ এবং উৎপাদিত দ্রব্যের বিপণন সুবিধাদি বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
