ব্যবহারিক: বিভিন্ন প্রকার পরজীবী শনাক্তকরণ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-ব্যবহারিক: বিভিন্ন প্রকার পরজীবী শনাক্তকরণ

ব্যবহারিক: বিভিন্ন প্রকার পরজীবী শনাক্তকরণ

বিষয়-১: বিভিন্ন প্রকার পরজীবী শনাক্তকরণ

উপকরণ

১। ট্রে-২টি

২। পেট্রি ডিশ-২টি

৩। ছুরি-১টি

৪। রোগাক্রান্ত মাছ

৫। আতশী কাচ

৬। অণুবীক্ষণ যন্ত্র

 

ব্যবহারিক: বিভিন্ন প্রকার পরজীবী শনাক্তকরণ

 

কার্যপদ্ধতি

১। কোনো জলাশয়ে থেকে রোগাক্রান্ত মাছ সংগ্রহ করুন।

২। সংগৃহীত মাছে শারীরিক কোনো অসংগতি রয়েছে কিনা তা আতশী কাচের সাহায্যে পরীক্ষা করুন এবং তা কোনো পরজীবীর কারণে কিনা তা পরীক্ষা করুন।

৩। অসংগতিপূর্ণ অংশ থেকে কিছু অংশ ছুরি দিয়ে কেটে তা পেট্রি ডিশে রাখুন এবং পৃথকভাবে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করুন।

৪। সংগৃহীত মাছে কোনো প্রকার ক্ষত আছে কিনা তা আতশী কাচের সাহায্যে ভালোভাবে পরীক্ষা করুন ।

৫। কোনো প্রকার পরজীবী পাওয়া গেলে তা সযত্নে সংগ্রহ করুন এবং প্রথমে পরজীবীর আকার বুঝতে চেষ্টা করুন এবং পরে তা চিত্রের সাথে মিলিয়ে নিন।

৬। শেষ পর্যায়ে বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে পরজীবী শনাক্ত করুন। ৭। শনাক্ত করা পরজীবীর চিত্র এবং বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য খাতায় অংকন এবং লিপিবদ্ধ করুন।

 

ব্যবহারিক: বিভিন্ন প্রকার পরজীবী শনাক্তকরণ

 

মাছের উকুন (Argulosis)

কারণ ও লক্ষণ :

আরগুলাস নামক বহিঃপরজীবী দ্বারা মাছ আক্রান্ত হয়। মাছের দেহের রক্ত চুষে ক্ষত সৃষ্টি করে। দেহ পৃষ্ঠ ও পাখনায় উকুন লেগে থাকে। শক্ত কিছু পেলে মাছ দেহ ঘষে। মাছ লাফালাফি করে। দেহ থেকে রক্তক্ষরণ হয়। পরজীবী খালি চোখে দেখা যায়। মাছ ক্লান্তহীনভাবে সাঁতার কাটে। আক্রান্ত স্থানের চারপাশ লালচে বর্ণ হয়।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার :

পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন দেয়া। জৈবসার প্রয়োগ কমিয়ে দেয়া। আক্রান্ত মাছ পুকুর থেকে সরানো। ডিপটারেক্স (ডাইলকস, নেগুভন, টেগুভন) ০.৫ পিপিএম হারে পুকুরে প্রয়োগ করা। সপ্তাহে একবার ও পরপর ৫ বার অথবা ০.৮ পিপিএম হারে সুমিথিয়ন প্রয়োগ করা। প্রতি সপ্তাহে একবার ও পরপর ৫ বার অথবা ০.২৫ পিপিএম পটাশ দ্রবণে   ৫-৬ মিনিট গোসল করাতে হবে।

কৃমি রোগ

বর্ষা ও শীতকালে নার্সারি ও লালন পুকুরে এ কৃমি বেশি দেখা যায়। এ জাতীয় কৃমি নাইলোটিকা মাছের ফুলকায় আক্রমণ করে এবং শিরা উপশিরা থেকে রক্ত চুষে নেয়।

 

ব্যবহারিক: বিভিন্ন প্রকার পরজীবী শনাক্তকরণ

 

লক্ষণ হলো :

রোগাক্রান্ত মাছ খুব অস্থিরভাবে চলাফেরা করে। মাছের দেহে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। মাছের শ্বাসকষ্ট হয় ও পুকুর পাড়ে ভাসতে থাকে। পুকুরের পাড়ে কোনো কিছুতে গা ঘষতে থাকে। মাছ দুর্বল হয়। মাছের শ্বাসকষ্ট হয় ও মারা যেতে পারে।

প্রতিরোধ-প্রতিকার :

জলাশয়ের শামুক পরিষ্কার করা। প্রতি শতাংশে পুকুরে ১ মিটার গভীরতার জন্য ৪০ গ্রাম ডিপ্টারেক্স ৭ দিন পরপর মোট ২ বার প্রয়োগ করতে হয়। ৩.৫ লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার ফরমালিন মিশিয়ে সেই দ্রবণে মাছ ৫ থেকে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।

Leave a Comment