বীজ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা

বীজ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি বীজ ও বীজ প্রযুক্তি বিষয়ের ৩ নং ইউনিটের প্রথম পাঠ বা ৩.১ নম্বর পাঠ।

বীজ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা , বীজ ও বীজ প্রযুক্তি , ইউনিট-৩ , পাঠ-৩.১

বীজ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা

বীজ প্রযুক্তি:

বীজ প্রযুক্তি বলতে বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে বীজ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণনে যে সমস্ত কলাকৌশল মেনে চলে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয় তাকে বুঝায়। বীজ উৎপাদনে বিশেষ ধাপসমূহ যেমন : জমি নির্বাচন, স্হান নির্বাচন, বীজের জাত নির্বাচন, উপযুক্ত পরিবেশ ও মাটি নির্বাচন, পরিমিত সারের প্রয়োগ এবং বিভিন্ন পরিচর্যা যেমন : আগাছা দমন, কীট ও রোগবালাই দমন করার জন্য আপদনাশকের রুটিন স্প্রে করা, জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য রোগিং করা এবং নিরাপদ দূরত্ব রেখে স্বতন্ত্রীকরণ করা ইত্যাদি যথাযথভাবে মেনে চলতে হয়।

বীজ প্রযুক্তির বিভিন্ন ধাপ ও নীতিমালা অনুসরণ করে বীজের মান বজায় রাখা সম্ভব। কারণ বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষনের যে কোন স্তরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বীজের তেজ ও মানের অবনতি ঘটতে পারে। বীজের মান বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভরশীল। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধতা, অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা, স্বাস্হ্য ও কৌলিতাত্ত্বিক বিশুদ্ধতা (Genetic purity) অন্যতম।

বীজ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা , বীজ ও বীজ প্রযুক্তি

বীজ প্রযুক্তির সুষ্ঠু নীতিমালা প্রয়োগ করে উচ্চ ফলনশীল বীজ উৎপাদন ও এর মান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বর্তমানে বিএডিসি এর ২৪ টি বীজ বর্ধন খামারে ভিত্তি এবং প্রত্যায়িত ধান ও গম বীজ এবং কিছু পরিমাণ আলু বীজ উৎপাদন করছে। ভিত্তি বীজ উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ফসলের যে প্রজনন বীজ ব্যবহার করা হয় তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমূহের উদ্ভাবিত বা পরীক্ষিত এবং জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত। এই ভিত্তি বীজ থেকে পরবর্তীতে আবার বীজ বর্ধন খামারে এবং নির্বাচিত চুক্তিবদ্ধ চাষীর মাধ্যমে প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদন করে তা পরবর্তী উৎপাদন মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে বীজ হিসেবে বিতরণ করা হয়।

Capture 262 বীজ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা

বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষকই বর্তমানে আধুনিক বীজ ‘প্রযুক্তি সম্পর্কে ওয়াকেবহাল নন। এরা সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন এবং নিজের ঘরেই নিজের উৎপাদিত ফসলের কিছু অংশ পরবর্তী ফসল চাষের জন্য সংরক্ষণ করেন। এরকম অবহেলা এবং অযত্নে রক্ষিত চাষীর বীজ দিয়ে কী ধরনের ফসল উৎপাদন করা সম্ভব তা সহজেই অনুমেয়। এজন্যই অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশের গড় ফলন অনেক কম। বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান প্রধান ফসলের গড় ফলন বিগত কয়েক বৎসর যাবৎ প্রায় স্থবির হয়ে

বীজ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা , বীজ ও বীজ প্রযুক্তি

দাঁড়িয়ে আছে। সার, পানি ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এ স্থবিরতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না। বীজ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ স্থবিরতা কাটিয়ে উঠা যেতে পারে। চীন ও জাপানে ধানের হেক্টর প্রতি গড় ফলন প্রায় ৫-৬ টন, সেখানে বাংলাদেশের ফলন মাত্র প্রায় ২ টন। দেশের কৃষি নীতির প্রধান কৌশল ‘ক্রপিং ইনটেনসিটি বৃদ্ধি ও ‘হেক্টর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধির’ সফলতা নির্ভর করছে বীজ’ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রসার এর ওপর।

আমাদের গুগল নিউজ ফলো করুন
আমাদের গুগল নিউজ ফলো করুন

 

বীজ ‘প্রযুক্তির আরেকটি সংযোজন হলো সংকর বা হাইব্রীড বীজ। মুক্ত পরাগায়িত বীজের কৌলিতাত্ত্বিক বিভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু সংকর বীজে এই বিভিন্নতা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই সমরূপিতা সংকর বীজের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংকর বীজ, মুক্ত পরাগায়িত জাতের বীজ অপেক্ষা অধিক ফলনশীল, কষ্ট সহিষ্ণু ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন হয়ে থাকে। সংকর বীজের দাম বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংকর জাতের বীজ অধিক লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।

 

সূচি:

  • বীজ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা , বীজ ও বীজ প্রযুক্তি , ইউনিট-৩ , পাঠ-৩.১

আরও দেখুন:

Leave a Comment