আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-ব্যবহারিক:গলদা ও বাগদা চিংড়ি শনাক্ত
ব্যবহারিক:গলদা ও বাগদা চিংড়ি শনাক্ত
উপকরণ
১। গলদা ও বাগদা চিংড়ি
২। ট্রে
৩। চিমটা
৪। আতশী কাঁচ
৫। ব্যবহারিক খাতা।

কাজের ধাপ
১। গলদা ও বাগদা চিংড়ি সংগ্রহ করুন এবং খুব সাবধানে নিয়ে আসুন।
২। ট্রের উপর চিংড়িগুলো রেখে এর সূক্ষ্ম অংশগুলো পর্যবেক্ষণ করুন।
৩। চিংড়ির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করুন। পায়ের আকৃতি, ক্যারাপেসের উপর চিহ্ন, রং, দেহের চিহ্ন, রোস্ট্রামের খাঁজ সংখ্যা ইত্যাদি ভালোমত লক্ষ্য করুন। বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে তাত্ত্বিক বইয়ের সংগে মিলিয়ে নিন।
৪। একটি গলদা ও একটি বাগদা চিংড়ির ছবি এঁকে বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করন।
চূড়ান্ত মূল্যায়ন
সংক্ষিপ্ত ও রচনামূলক প্রশ্ন
১। গলদা বা বাগদা চিংড়ির চিত্র এঁকে বিভিন্ন অংশের নাম লিখুন।
২। চিংড়ির সাধারণ চাষ বলতে কি বুঝায়? ইহা কত প্রকার ও কি কি?
৩। মিশ্র চাষ পদ্ধতিতে অসুবিধা কি?
৪। একক চাষ পদ্ধতিতে অসুবিধা কি?
৫। উন্নত চিংড়ি চাষ বলতে কি বুঝায়?
৬। ধান ক্ষেত্রে কিভাবে চিংড়ি চাষ করা হয়?
৭। পুকুরে চুন ব্যবহারের কারণ কি? মাটি অনুযায়ী চুন ব্যবহারের মাত্রা ছকে দেখান।
৮। বাগদা চিংড়ির ঘের কিভাবে প্রস্তুত করা হয়?
৯। বাগদা চিংড়ির ফলন আহরণের পদ্ধতি কয়টি ও কি কি?
১০। চিংড়ি আহরণ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বর্ণনা করুন?
১১। সুস্থ ও সবল পোনা চেনার উপায় কি?
চাষ পদ্ধতি
বাংলাদেশে সাধারণত তিন ভাবে চিংড়ি চাষ করা যায়। যথা: ১ .এককভাবে চিংড়ি চাষ; ২ .পর্যায়ক্রমে চিংড়ি ও ধান চাষ; ৩ .পর্যায়ক্রমে লবণ উৎপাদন ও চিংড়ি চাষ। এককভাবে চিংড়ি চাষ বলতে প্রধানত উপকূলীয় এলাকায় বাগদা চিংড়ির চাষকেই বোঝায়। যেখানে জোয়ার ভাটার প্রভাব রয়েছে সে এলাকা একক চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী।
খুলনা জেলার চিংড়ি খামার গুলোর অধিকাংশই উপকূলীয় বাঁধের ভিতরে অবস্থিত। এগুলি এককভাবে চিংড়ি চাষের জন্য ব্যবহৃত হয়। একটি আদর্শ খামারে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য যেসব দিকে দৃষ্টি রাখা হয় তা হলো , খামারকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে বেষ্টনী বাঁধের ব্যবস্থা রাখা। বেষ্টনী বাঁধ সাধারণত ২-৩ মিটার উঁচু হয় , যেন সর্বোচ্চ জোয়ারের সময়ও বাঁধের ওপর দিয়ে পুকুরে পানি ঢুকতে না পারে।
এছাড়া খামারে পানি ও চিংড়ির পোনা ঢুকানোর জন্য হেড ক্যানেল (head canel)-এর ব্যবস্থা থাকে।প্রকল্প থেকে প্রয়োজনে পানি নিষ্কাশনের জন্য ফিডার ক্যানেল(feeder canel) থাকে। অনেক সময় অভ্যন্তরীণ বাঁধ নির্মাণ করে খামারে পোনা প্রতিপালনের জন্য ছোট ছোট নার্সারি পুকুর (nursery pond) তৈরি করা হয়।

খামারের প্রতিটি পুকুরে সঠিক মাত্রায় পানির গভীরতা বহাল রাখতে স্লুইস গেট (sluice gate)-এর ব্যবস্থা থাকে। স্লুইস গেট চিংড়ি খামারের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। বড় আকৃতির প্রধান স্লুইস গেট ফিডার ক্যানেলের মুখে বসাতে হয়। অল্প ব্যয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার জন্য সাধারণত কাঠের গেট ব্যাবহার করা হয়।
বড় আকারের খামার ২০-২২ একর পর্যন্ত হয়। খামারের নার্সারি পুকুরের আয়তন সাধারণত পালন পুকুরের দশভাগের এক ভাগ হয়ে থাকে। পালন পুকুরের গভীরতা ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত এবং নার্সারি পুকুরের গভীরতা অনধিক ০.৭৫ মিটার।
প্রতিবার চিংড়ি চাষ শুরু করার আগে পুকুর থেকে পানি সম্পূর্ণ বের করে নিতে হয়। পুকুরে খাদ্যঘাটতি রোধের জন্য হেক্টরপ্রতি ২৫০ কেজি জৈব সার এবং ৫৯ কেজি অজৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। সার প্রয়োগের পরে পানির গভীরতা ৪০-৫০ সেন্টিমিটার রেখে এক সপ্তাহ পর পোনা ছাড়তে হয়।
