মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষ

মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষ

সমন্বিত পদ্ধতিতে পুকুরে হাঁস ও মাছ চাষের মত মুরগি ও মাছের চাষও করা যায়। এক্ষেত্রে মুরগির বিষ্ঠা ও পড়ে যাওয়া খাদ্য মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হয়। মাংসের জন্য ব্রয়লার এবং ডিমের জন্য লেয়ার উভয় জাতই এ পদ্ধতিতে পালন করা যায়।

মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষের সুবিধা :

১। পুকুরের পাড়ে বা পানির উপর ঘর তৈরি করা হয় বলে মুরগির ঘরের জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না।

২। মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি পানিতে গিয়ে পড়ে।

৩। অব্যবহৃত ও পানিতে পড়ে যাওয়া খাদ্য মাছের সম্পূরক খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

৪। মাটির সংস্পর্শে না থাকায় মুরগিতে রোগ বালাই কম হয় এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

৫। মুরগির বিষ্ঠা পুকুরে সার যোগান দেয়।

মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষ

 

মুরগির ঘর :

বাঁশ, ছন, টিন ইত্যাদি দ্বারা অল্প খরচে এই ঘর তৈরি করা যায়। ঘরের মেঝেতে প্রতিটি ব্রয়লারের জন্য ০.০৯ বর্গমিটার এবং প্রতিটি লেয়ার বা ডিম পাড়া মুরগির জন্য ০.২৭ বর্গমিটার জায়গার দরকার হয়। ঘরের মেঝে বাঁশের শক্ত বাতা দিয়ে তৈরি করা যায়।

প্রতিটি বাতার মাঝখানে ১ সে.মি. ফাঁক রাখতে হয় এতে বিষ্ঠা এবং উচ্ছিষ্ট খাবার সরাসরি পুকুরের পানিতে পড়ে যাবে। পানির উপরে ঘর করা হলে ঘরটি পাড় থেকে অন্তত দেড় থেকে দুই মিটার দূরে করা উচিত। পাড় থেকে ঘরে আসা যাওয়ার জন্য বাঁশের সিঁড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে সিঁড়ি সরিয়ে দিতে হবে। ঘরের উচ্চতা মেঝে থেকে ১.৫ থেকে ২ মিটার হতে হবে।

ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শীত অথবা গ্রীষ্মকালে ছনের ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।

মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষ

 

মুরগির জাত নির্বাচন

মাংসের জন্য স্টার ব্রো, আরবর একর, ইসা ভেডেট এবং ডিমের জন্য স্টার ক্রস, লোহম্যান ব্রাউন, ইসাব্রাউন ইত্যাদি জাত পালন করা যেতে পারে। এছাড়া রোড আইল্যান্ডরেড, ফাইওমী, অস্ট্রালপ এবং হোয়াইট লেগ হর্ন জাতের মুরগিও পালন করা যেতে পারে।

মুরগির সংখ্যা

প্রতি শতক পুকুরে ২টি বড় মুরগি পালন করলে মাছের জন্য কোন খাদ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ছোট বাচ্চা পালন করলে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করা যায়। মুরগির যত্ন ও ব্যবস্থাপনা-

ছোট বাচ্চা বা ব্রয়লারের জন্য ঘরে পর্যাপ্ত তাপের ব্যবস্থা করতে হবে। মুরগিকে খ ও পরিষ্কার জীবাণুযুক্ত পানি নিতে হবে। মুরগিকে সময়মত এবং নিয়মিত টিকা নিতে হবে।

পুকুর প্রস্ততকরণ

মাছ ছাড়ার পূর্বে পুকুর থেকে রাক্ষুসে মাছ যেমন- শোল, বোয়াল, গজার, টাকি ইত্যাদি ধরে ফেলতে হবে। পানি নিষ্কাশন করে বা রোটেনন জাতীয় ওষুধ প্রতি শতাংশ পুকুরে ৩৫ গ্রাম হিসাবে ব্যবহার করে রাক্ষুসে মাছ ধরা যায়। পুকুর থেকে জলজ আগাছা শিকড়সহ তুলে ফেলতে হবে।

পুকুরের তলদেশ সমান হতে হবে এবং কাদা, পঁচা পাতা ও আবর্জনা থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। পুকুরের পাড় উঁচু এবং সমতল হতে হবে। আলো বাতাসের জন্য জঙ্গল পরিষ্কার করে দিতে হবে। পুকুর হতে পানি নিষ্কাশনের পর প্রতি শতাংশের পুকুরে ১ কেজি চুন ছিটিয়ে নিতে হবে। চুন দেওয়ার ৭ দিন পর পুকুরে মাছ ছাড়া যায়।

 

মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষ

 

মাছের জাত নির্বাচন ও সংখ্যা

সমন্বিত মুরগি ও মাছ চাষ পদ্ধতিতে পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ ছাড়তে হবে। মাছ যেন একে অপরের প্রতি সহনশীল হয়। হাঁস মুরগি পালিত পুকুরে মাছের বিভিন্ন রকমের খাদ্য উৎপন্ন হয় যেমন ক্ষুদে উদ্ভিদ (ফাইটোপ্লাংকটন), ক্ষুদে প্রাণী (জুপ্লাংটন) ও জলজ পোকামাকড়।

এ সমস্ত থানা খেয়ে পুকুরে মাছের উৎপাদন বেশি হন। বিভিন্ন খাদ্যাভাসের বিভিন্ন মাছ ছাড়লে পুকুরে উৎপাদিত খাদ্যসমূহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং মাছের উৎপাদনও বাড়বে। শুধু এক প্রজাতির মাছ ছাড়লে এক জাতীয় এবং এক স্তরের খানা খাবে তাতে খাদ্যের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার হবে না।

ফলে মাছের উৎপাদন কম হবে। সমন্বিত মুরগি ও মাছ চাষ পদ্ধতিতে পুকুরের তলা, পানির মধ্য ভাগ এবং উপরিভাগের খাদ্য খায় এমন প্রজাতি যথাক্রমে গেল বা কাল বাউশ তুই কাতলা বা সিলভার কার্প জাতীয় মাছ ছাড়তে হয় ।

৩৩ শতাংশের একটি পুকুরে ৮-১০ সে.মি. আকারের ১০০০ পোনা মাছ ছাড়া যেতে পারে। কাতলা/সিলভার কার্প ৩০% মৃগেল কালবাউশ 80%, ২০% এবং গ্রাস কার্প ১০% হারে ছাড়া উত্তম। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে বছরে প্রতি বিদায় ৬০০ কেজি মাছ ১২ থেকে ১৫ হাজার ডিম এবং প্রায় এক হাজার কেজি ব্রয়লারের মাংস উৎপাদন করা সম্ভব।

মাস কার্প মান জাতীয় খাদ্য খেয়ে থাকে। পুকুরে হুলহু উদ্ভিদ থাকলে এদের জন্য আলাদা খাদ্যের প্রয়োজন হয় না। পুকুরে জলজ উদ্ভিদ না থাকলে পুকুর পাড়ে জন্মানো ঘাস, পাতা ইত্যাদি দিলে চলে। পুকুর পাড়ের ভিতর দিকে জার্মান ও পারা এবং পাড়ে নেপিয়ার জাতীয় উন্নত জাতের মাস চাষ করে মাস কার্পের সংস্থান করगा।

সারমর্ম

• সমন্বিত পদ্ধতিতে পুকুরের পাড়ে অথবা উপরে মুরগি ও পুকুরে মাছ চাষ করে বেশ
• প্রতি শতক পুকুরে ২টি করে মুরগি পালন করতে হ্যা। এতে মাছের জন্য আর কোন বাড়তি খাদ্য দেওয়ানা
• মাছ ছাড়ার পূর্বে পুকুর থেকে রাক্ষুসে মাছ ধরে ফেলতে হয়।
• প্রতি শতাংশের পুকুরে ১ কেজি চুন দেয়ার ৭ দিন পর মাছ ছাড়তে হল। • ৩৩ শতাংশের পুকুরে ৮-১০ সে.মি. আকারের বিভিন্ন জাতের ১০০০ মাছের পোনা

Leave a Comment