বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিচিতি ও পরিসংখ্যান

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিচিতি ও পরিসংখ্যান – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “কৃষি পরিচিতি ও পরিবেশ” বিষয়ের “পরিবেশের উপাদান” বিষয়ের ইউনিট ২ এর ২.৪ নং পাঠ।

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিচিতি ও পরিসংখ্যান

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিচিতি ও পরিসংখ্যান

 

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের চারটি উৎস রয়েছে। এগুলো হলো:

১। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়

২। অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়

৩। আধালোনা পানির জলাশয়

অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মধ্যে রয়েছে নদী ও খাড়ি অঞ্চল, হাওর, বিল, হ্রদ এবং প্লাবনভূমি। বর্তমানে দেশে মোট মুক্ত জলাশয়ের পরিমাণ ৪০,৪৭,৩১৬ হেক্টর।

৪। সামুদ্রিক জলাশয় ।

অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় মুক্ত এলাকার সঙ্গে যুক্ত জলাশয়কে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় বলে। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মধ্যে রয়েছে নদী ও খাড়ি অঞ্চল, হাওর, বিল, হ্রদ এবং প্লাবনভূমি। প্লাবনভূমি বর্ষাকালে পানিতে ভরে নদীর সাথে একাকার হয়ে যায় এবং শুকনো মৌসুমে জমিতে পরিনত হয় এবং তখন সেখানে ফসলের চাষাবাদ করা হয়। বিভিন্ন কারণে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মাছের সংখ্যা ও উৎপাদন ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।

বর্তমানে দেশে মোট মুক্ত জলাশয়ের পরিমাণ ৪০,৪৭,৩১৬ হেক্টর। অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয় যে সকল জলাশয় নদী, হাওর বা বিলের সাথে যুক্ত নয় এদেরকে অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয় বলে। অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ের মধ্যে রয়েছে পুকুর, দিঘি, বাওর, ইত্যাদি। বর্তমানে দেশে মোট বদ্ধ জলাশয়ের পরিমাণ ১,৫২,৩৭৮ হেক্টর। আধালোনা পানির জলাশয় নদী ও সমুদ্রের সঙ্গমস্থলকে আধালোনা পানির জলাশয় বলে। এসব এলাকা নদীর পানিবাহিত পুষ্টিকারক ও সমুদ্রের পানির পুষ্টিকারক দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়। আধালোনা পানির জলাশয় যে কোন জলাশয়ের চেয়ে অধিক উৎপাদন ক্ষমতা স¤žন্ন হয়।

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিচিতি ও পরিসংখ্যান , কৃষি পরিচিতি ও পরিবেশ , ইউনিট ২ , পাঠ-২.৩

আমাদের দেশে আধালোনা পানি অঞ্চল সাতক্ষিরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। উপকুলীয় চিংড়ি খামার এলাকা বা আধালোনা পানির জলাশয়ের আয়তন ২,৬০,০০০ হেক্টর। সামুদ্রিক জলাশয় সামুদ্রিক জলাশয়ের একান্ত অর্থনৈতিক এলাকা ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং মহিসোপান ৮৫,১৫৩ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের দেশের দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এটি সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উৎস। সামুদ্রিক জলাশয়ের একান্ত অর্থনৈতিক এলাকা ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং মহিসোপান ৮৫,১৫৩ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

সামুদ্রিক জলাশয়ে আর্টিশনাল ফিশারি ও ট্রলি ফিশারি দিয়ে মাছ ধরা হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে প্রায় ২৬০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ আছে। এছাড়া এসব জলাশয়ে আরও ১২ প্রজাতির বিদেশী মাছ ও ২৪ প্রজাতির চিংড়ি মাছ আছে। মাছের প্রজাতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে প্রায় ২৬০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ আছে। এছাড়া এসব জলাশয়ে আরও ১২ প্রজাতির বিদেশী মাছ ও ২৪ প্রজাতির চিংড়ি মাছ আছে। সামুদ্রিক এলাকায় রয়েছে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ এবং ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি মাছ। মাছের শ্রেণিবিন্যাস বিভিন্ন রকম হতে পারে।

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিচিতি ও পরিসংখ্যান , কৃষি পরিচিতি ও পরিবেশ , ইউনিট ২ , পাঠ-২.৩

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন হতে গোত্র বা পরিবার অনুসারে মাছের শ্রেনিবিন্যাস উত্তম। আবার পরিবেশের উপর ভিত্তি করে তথা মিঠা পানির মাছ এবং লোনা পানির মাছ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। মিঠা পানির মাছ হাওড়, বাওড়, পুকুর, দিঘি, নদী, খাল, বিল ইত্যাদিতে বাস করে। দেহের তুলনায় এদের ডিম ধারণ ক্ষমতা বেশি। এরা ঝাঁক বেধে চলাফেরা করে। এদের মাথায় কোন আইশ নেই। ক্যাট ফিশ ব্যতীত অন্য সব মাছের দেহ মাঝারী ও ছোট আইশে ভর্তি থাকে।

Capture 220 বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিচিতি ও পরিসংখ্যান

ভেটকি, লইট্যা মাছ, রাঙ্গা মাছ, সোনালী বাটা, সামুদ্রিক পাঙ্গাস, লাখ্খা, পরিমাছ, পোয়া, লালাপোয়া, রূপচান্দা, ফাইস্যা, ইলিশ ও টুনা। উপরে বর্ণিত মাছগুলো আমরা নিজেরা খাই এবং কিছু অংশ বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করি।

মৎস্য সম্পদের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিসংখ্যান নিম্নে দেয়া হলো ঃ

Capture 221 বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের পরিচিতি ও পরিসংখ্যান

Leave a Comment